ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা, লেবাননের গ্রামগুলিতে ইজরায়েলি বোমার বৃষ্টি! মৃত্যুমিছিলে কাঁপছে দুনিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পরই তীব্রতা বেড়েছে সংঘাতের। একদিকে লেবাননের একের পর এক গ্রাম গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইজরায়েলি বিমানবাহিনী, অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও হামলায় হতাহত হচ্ছে হাজার হাজার নারী ও শিশু।
লেবাননে ইজরায়েলি ধ্বংসলীলা ইসলামাবাদে যখন আলোচনার টেবিলে বিশ্বনেতারা বসেছিলেন, ঠিক তখনই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কানায় বিধ্বংসী বোমা বর্ষণ করে ইজরায়েল।
-
ইতিহাসের ক্ষত: ১৯৯৬ ও ২০০৬-এর গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত কানায় এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন।
-
মৃত্যুর পরিসংখ্যান: গত এক মাসে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২,০২০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৬৫ জন শিশু ও ২৪৮ জন নারী। আহত হয়েছেন ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।
রক্তাক্ত ইরান: শিশুদের আর্তনাদ ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানে অন্তত ২,১১৫ জন শিশু ও কিশোর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২৪ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এছাড়া প্রায় ৫ হাজার নারী এই হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। তেহরান, ইসফাহান ও খুজেস্তানের মতো প্রদেশগুলিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।
কেন ব্যর্থ হলো শান্তি আলোচনা? ইসলামাবাদে আলোচনার অন্যতম প্রধান কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের যাতায়াত পথ এই প্রণালীকে নিজেদের ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে তেহরান।
-
ইরানের শর্ত: ইরানের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালাতে গেলে এখন থেকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল দিতে হবে।
-
আমেরিকার ব্যর্থতা: ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা তাদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে আসতে হয়েছে দুই পক্ষকে।
ভবিষ্যৎ কোন পথে? আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েন বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। একদিকে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লেবানন ও ইরান, অন্যদিকে নিজেদের অবস্থানে অনড় আমেরিকা ও ইজরায়েল— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব।