হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের! ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কি তবে এবার অনিবার্য? দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার ম্যারাথন বৈঠকের পরেও কোনও রফাসূত্র মিলল না আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। এই ব্যর্থতার পরই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়ার। যার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক লড়াই: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা কমাতে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরেও দুই দেশ কোনও সাধারণ বিন্দুতে পৌঁছাতে পারেনি।
-
আমেরিকার দাবি: মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য তথা উপ-রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার নেতা জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটন যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছিল। কিন্তু ইরান সব শর্ত খারিজ করে দেওয়ায় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
-
ইরানের পাল্টা তোপ: তেহরানের দাবি, আমেরিকা এমন সব ‘অযৌক্তিক’ শর্ত চাপিয়েছে যা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র মতে, আলোচনার ব্যর্থতার পুরো দায় আমেরিকার অনড় অবস্থানের।
কেন এই হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। যদি ইরান এই পথ বন্ধ করে দেয়, তবে:
-
জ্বালানি সংকট: বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
-
দাম বৃদ্ধি: পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভারতেও।
-
অর্থনৈতিক মন্দা: পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞের মত: এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা শুধু দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা। তেহরানের এই ‘তেল অস্ত্র’ ব্যবহার করার হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? আপাতত দুই দেশই একে অপরের ওপর দোষারোপ করছে। মাঝসমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং সামরিক মহড়া এই উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।