পিসি ধ্বংস নয়, চোর ধরতে ভাইরাস! ৪০ বছর আগে দুই পাকিস্তানি ভাইয়ের তৈরি ‘ব্রেইন’ ভাইরাস কেন ফের চর্চায়?

বর্তমান বিশ্বের সব নজর এখন পাকিস্তানের দিকে। ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে মুখোমুখি বসেছে আমেরিকা ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান যখন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তখনই নেটপাড়ায় ফিরে এল এক পুরনো আতঙ্ক—‘ব্রেইন ভাইরাস’ (Brain Virus)। কম্পিউটার জগতের প্রথম এই ভাইরাসের নেপথ্যে ছিলেন দুই পাকিস্তানি ভাই!
কেমন ছিল সেই প্রথম ভাইরাস?
১৯৮৬ সাল। ইন্টারনেটের যুগ তখনো আসেনি। লাহোরের দুই তরুণ প্রোগ্রামার, ১৯ বছরের বাসিত ফারুক আলভি এবং ২৬ বছরের আমজাদ ফারুক আলভি তৈরি করেছিলেন বিশ্বের প্রথম আইবিএম (IBM) পিসি ভাইরাস। এটি মূলত ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ত।
কেন তৈরি করা হয়েছিল এই ‘ব্রেইন’?
আজকের ভাইরাসগুলো যেমন তথ্য চুরি বা কম্পিউটার নষ্ট করে দেয়, ‘ব্রেইন’ তেমন ছিল না। লাহোরে আলভি ভাইদের একটি কম্পিউটার দোকান ছিল। তারা লক্ষ্য করেন, লোটাস ১-২-৩ বা ওয়ার্ল্ডস্টারের মতো দামি সফটওয়্যারগুলো বিদেশিরা পাইরেসি করে সস্তায় ব্যবহার করছে। সফটওয়্যার পাইরেসি রুখতেই তারা এই ‘ডিজিটাল অস্ত্র’ তৈরি করেন।
আমেরিকানদের জন্য ‘বিশেষ’ সাজা!
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, স্থানীয় পাকিস্তানিরা যখন সফটওয়্যার কিনতে আসতেন, তাদের ভাইরাস-মুক্ত কপি দেওয়া হতো। কিন্তু আমেরিকান বা অন্যান্য বিদেশিদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ভাইরাস-আক্রান্ত ডিস্ক। বাসিত আলভি অকপটে জানান,
“যেহেতু আপনারা আমাদের সফটওয়্যার চুরি করছিলেন, তাই চোরদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই ভাইরাস ঢোকানো হয়েছিল।”
কী করত এই ভাইরাস?
ভাইরাসটি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের দখল নিত এবং ডিস্কের স্টোরেজ কমিয়ে দিত। মজার বিষয় হলো, ভাইরাসের কোডের ভেতরেই আলভি ভাইদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর দেওয়া ছিল! যাতে কেউ সমস্যায় পড়লে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘শিক্ষা’ নিতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষিত:
আজকের অত্যাধুনিক সাইবার যুদ্ধের যুগে দাঁড়িয়ে ৪০ বছর আগের সেই ‘ব্রেইন’ ভাইরাস এখনো আলোচনার বিষয়। যদিও আলভি ভাইয়েরা ১৯৮৭ সালেই এর ব্যবহার বন্ধ করে দেন, তবুও কম্পিউটার নিরাপত্তার ইতিহাসে লাহোরের এই দুই ভাইয়ের নাম চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। ইসলামাবাদে যখন বিশ্বশান্তির আলোচনা চলছে, তখন পাকিস্তানের এই ‘টেক-ইতিহাস’ নতুন করে নেটজনতার কৌতূহল উস্কে দিয়েছে।