হরমুজ প্রণালীতে ‘মারণ ফাঁদ’! একচুল এদিক-ওদিক হলেই সলিল সমাধি? কাঁপছে বিশ্ব

শান্তির আবহ তৈরি হলেও কাটেনি আশঙ্কার মেঘ। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও, সেখানে ঘাপটি মেরে রয়েছে চরম বিপদ। সমুদ্রের নীল জলের নিচে বিছিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য ‘আন্ডার ওয়াটার মাইন’ বা মারণ বোমা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ (ISNA) একটি চাঞ্চল্যকর মানচিত্র প্রকাশ করে এই দাবি করার পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
ইসনার প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত রুটগুলিতে জলের নিচে এমনভাবে মাইন বিছিয়ে রাখা হয়েছে যে, নির্ধারিত রুট থেকে সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটবে। জ্বালানি তেলবাহী বিশালাকার ট্যাঙ্কারগুলোর ক্ষেত্রে এই বিপদ আরও কয়েক গুণ বেশি। একটু ভুল মানেই নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এবং প্রাণ হারাবেন নাবিকরা। ইরান সরকার বা তাদের সেনাবাহিনী এই মাইনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি। উল্টো তারা কড়া ভাষায় জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে ইরান আর্মড ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই চলতে হবে।
ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস সাফ জানিয়েছে, জাহাজগুলিকে তাদের বাতলে দেওয়া নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করতে হবে। কোথা থেকে ঢুকতে হবে এবং কোন পথে বেরোতে হবে, তার একটি গাইডলাইনও তারা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই নির্দেশিকা না মানলে মাইনের কবলে পড়ার দায়ভার তাদের নয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি আসলে আন্তর্জাতিক মহলের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর অবস্থানে অনড়, তখন এই মাইন আতঙ্ক ছড়িয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে চাপে রাখতে চাইছে তেহরান।
যদিও ইরান প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি করছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভারত সরকার সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ওই পথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। পাকিস্তানের উদ্যোগে শান্তি বৈঠকের আগে ইরান নিজের প্রভাব বজায় রাখতে এই মারণ ফাঁদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে যুদ্ধ থামলেও হরমুজ প্রণালীর জট যে সহজে কাটছে না, তা বলাই বাহুল্য।