পুড়েছে ফসল, ভেঙেছে ঘর? চিন্তা নেই! যোগী সরকারের নয়া মাস্টারপ্ল্যানে চাষিদের জন্য বাড়ি ও বিমা

উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় অকাল বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃতির এই রোষে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক মুখ দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার সকালে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাজ্যের ‘অন্নদাতা’দের বিপদে কোনোভাবেই একা ছাড়া যাবে না। সরকার সব পরিস্থিতিতেই চাষিদের পাশে আছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত চাষির জমিতে গিয়ে নিরপেক্ষভাবে ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হবে। রাজস্ব ও কৃষি দফতর যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালাবে। যোগী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলা স্তরের রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথেই ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। বিমা সংস্থাগুলি যাতে দ্রুত টাকা মেটায়, তার জন্য আধিকারিকদের নিজে থেকে চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ:
শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, অগ্নিকাণ্ডে ফসল বা প্রাণহানির ঘটনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল যোগী সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যদি আগুন লাগার ঘটনায় কোনো পরিবার স্বজন হারায় বা গবাদি পশুর মৃত্যু হয়, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হাতে ত্রাণের চেক তুলে দিতে হবে। এছাড়া, যাদের ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনার’ আওতায় পাকা বাড়ি দেওয়া হবে।

রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল (SDRF) থেকে জেলাগুলিতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত অর্থ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কৃষকরা তাঁদের প্রাপ্য পান। যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ত্রাণ বিলির কাজে কোনো প্রকার গাফিলতি বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকের শেষে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এই কঠিন সময় আমরা কাটিয়ে উঠব, সরকার প্রতিটি কৃষক পরিবারের শক্ত খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।”