নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ছে বাংলা! ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ঢুকছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী, কাঁপছে দুষ্কৃতীরা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ নির্বাচন কমিশন। বুধবার বিকেলের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এক নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বঙ্গে নিরাপত্তার দাপট বাড়াতে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। আগে থেকেই নির্ধারিত ২,৪০০ কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে এই অতিরিক্ত ফোর্স যোগ হওয়ায়, এবারের নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ভোট হতে চলেছে।
কবে আসছে এই বাহিনী? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এই অতিরিক্ত ১৫০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে যাবে। এই তালিকায় রয়েছে:
-
BSF: ৫৫ কোম্পানি (সীমান্ত পাহারার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)।
-
CRPF: ৩২ কোম্পানি।
-
CISF: ৬ কোম্পানি।
-
SSB (অসম থেকে): ২ কোম্পানি।
-
SAPs/IR ব্যাটালিয়ন: বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও ৫৫ কোম্পানি।
কেন এই বিপুল তৎপরতা? নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, বাংলার স্পর্শকাতর বুথগুলিতে শান্তি বজায় রাখতে এবং ভোটারদের মনে ভরসা জোগাতে আরও ফোর্সের প্রয়োজন। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল— এই দুই দফার ভোট যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে মেটে, তার জন্যই এই ‘সুরক্ষাকবচ’।
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বড় চমক: বাংলার ভোট মানেই পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা— এই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রণকৌশল বদলেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, ২ মে ফল ঘোষণার পরেও রাজ্যে থেকে যাবে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী। মূলত গণনা কেন্দ্র এবং গণনা পরবর্তী অশান্তি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
একনজরে নিরাপত্তা চিত্র:
-
মোট বরাদ্দ বাহিনী: ২,৪০০ + ১৫০ = ২,৫৫০ কোম্পানি।
-
ডেডলাইন: ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সব বাহিনী বঙ্গে।
-
ভোট পরবর্তী স্থিতি: ফল ঘোষণার পর থেকে যাবে ৫০০ কোম্পানি।
ভোটের দিন এলাকা দখলদারি ঠেকানো থেকে শুরু করে ইভিএম পাহারা— সবক্ষেত্রেই এই বিশাল বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।