যুদ্ধের প্রভাব আমেও! রপ্তানি খাতের বড় ধাক্কা ইরান: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব (Iran War) এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের নানা ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে, আর তার সরাসরি ধাক্কা লাগতে পারে ভারতের আম রপ্তানি খাতে। বিশ্বের অন্যতম … By Suparna Parui Published: April 8, 2026 7:44 PM Follow Us India Sets New Record in Mango Production ইরান: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব (Iran War) এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের নানা ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে, আর তার সরাসরি ধাক্কা লাগতে পারে ভারতের আম রপ্তানি খাতে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরে প্রায় ২০৬.৮ লক্ষ টন আম উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ৪৪ শতাংশ জোগান দেয়। এই বিপুল উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই রপ্তানি ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংঘাতের জেরে(Iran War) স্ট্রেট অব হরমুজ় এবং লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটছে। এই পথগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের দিকে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক জাহাজকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহণে সময় যেমন বাড়ছে, তেমনই খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে রেফ্রিজারেটেড কন্টেনার বা ‘রেফার’-এর সঙ্কটে। আমের মতো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন পণ্য পরিবহণের জন্য এই বিশেষ ধরনের কন্টেনার অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে রেফারের ঘাটতির কারণে রপ্তানিকারকদের সময়মতো পণ্য পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কন্টেনার পেতে দেরি হওয়ায় আমের গুণমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে আলফানসো, কেসর এবং বাঙ্গানাপল্লির মতো প্রিমিয়াম মানের আমের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। পরিবহণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিও রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্চ মাসে একটি রেফ্রিজারেটেড কন্টেনারের ভাড়া প্রায় ১,০০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৪,০০০ ডলারের লেভি যোগ হওয়ায় মোট খরচ প্রায় চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আম রপ্তানি অলাভজনক হয়ে উঠছে। ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা বিশেষ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার সবথেকে বড় শিকার হতে চলেছে ভারতীয় আম। বিশ্বের মোট আম উৎপাদনের ৪৪ শতাংশ যোগান দেওয়া ভারতের কাছে এই রপ্তানি ধাক্কা এক বড় বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন বিপাকে আম রপ্তানি? ভারত থেকে বছরে প্রায় ২০৬.৮ লক্ষ টন আম উৎপাদিত হয়। এর একটি বিশাল অংশ যায় মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে। কিন্তু বর্তমানে দুটি প্রধান বাধা দাঁড়িয়েছে রপ্তানিকারকদের সামনে:

  • পথ পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধি: লোহিত সাগর এবং স্ট্রেট অব হরমুজ়ে উত্তেজনার কারণে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। মার্চ মাসেই একটি কন্টেনারের ভাড়া ১,০০০ ডলার বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪,০০০ ডলারের লেভি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ!

  • রেফার কন্টেনার সঙ্কট: আমের মতো দ্রুত পচনশীল ফল পাঠানোর জন্য বিশেষ রেফ্রিজারেটেড কন্টেনার বা ‘রেফার’-এর প্রয়োজন হয়। যুদ্ধের কারণে এই কন্টেনারগুলোর আকাল দেখা দিয়েছে। সময়মতো কন্টেনার না পাওয়ায় আমের গুণমান নষ্ট হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিপদে আলফান্সো ও কেসর: সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আলফান্সো, কেসর এবং বাঙ্গানাপল্লি। এই আমগুলো মূলত বিদেশের বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়। কিন্তু পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং কন্টেনার পেতে দেরি হওয়ায় ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের পক্ষে ব্যবসা চালানো প্রায় অলাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: যদি সময়মতো আম বিদেশে পাঠানো না যায়, তবে দেশের বাজারে জোগান অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে চাষিরা নায্য দাম পাবেন না। ফলে উৎপাদন খরচ তোলাও অনেকের পক্ষে কঠিন হবে।

পশ্চিম এশিয়ার এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্রুত না কমলে, এ বছর আমের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বিশ্ববাসী, আর পকেটে টান পড়বে ভারতীয় কৃষকদের।