বুকিং করেও মিলছে না গ্যাস! ২০০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি, এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের!

মধ্যবিত্তের হেঁশলে এবার বড়সড় ধাক্কা! রান্নার গ্যাসের (LPG) সরকারি সরবরাহ কার্যত তলানিতে ঠেকায় চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল অসাধু চক্র। যেখানে সাধারণ বুকিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস পেতে কালঘাম ছুটছে, সেখানে পকেট থেকে ২০০০ টাকা খসালেই অনায়াসে মিলে যাচ্ছে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার!
বুকিং করেও মাসের পর মাস অপেক্ষা
অভিযোগ উঠেছে, তেল সংস্থাগুলির ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার। গ্রাহকদের দাবি, ডিজিটাল অ্যাপ বা ফোনের মাধ্যমে বুকিং করার পর কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ‘আউট অফ স্টক’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ পাড়ার মোড়ে বা স্থানীয় ডেরায় চড়া দাম দিলেই মিলছে সেই একই কোম্পানির গ্যাস। ৮০০-৯০০ টাকার সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সিলিন্ডার এখন কালোবাজারে বিকোচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে।
কালোবাজারির জাল কতদূর?
ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের সঙ্গে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই গ্যাস চড়া দামে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
“বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে ১০ দিন আগে। বুকিং স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে পেন্ডিং। কিন্তু লোকাল এক দালালকে ২০০০ টাকা দিতেই আধ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে গেল। প্রশাসন কি এসব দেখছে না?” — ক্ষোভের সঙ্গে জানান এক ভুক্তভোগী গ্রাহক।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যখন সরকারিভাবে সরবরাহে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে, তখন কালোবাজারে সিলিন্ডার আসছে কোথা থেকে? সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অগ্নিমূল্যের বাজার সাধারণ মানুষের পকেট কাটতেই থাকবে। তেল সংস্থাগুলি এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের এই বাজারে রান্নার গ্যাসের এই নজিরবিহীন কালোবাজারি এখন সাধারণ মানুষের মাথা ব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে বিভিন্ন উপভোক্তা ফোরাম।