শত্রুঘাঁটিতে লুকানো মার্কিন পাইলটকে খুঁজল ‘হৃদস্পন্দন’! CIA-এর ‘গোস্ট মার্মার’ প্রযুক্তিতে স্তম্ভিত ইরান

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিজ্ঞান যে কল্পকাহিনীকেও হার মানাতে পারে, তার প্রমাণ মিলল ইরানের দুর্গম পাহাড়ে। মার্কিন বিমানবাহিনীর ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে সিআইএ ব্যবহার করল তাদের সবথেকে গোপন এবং শক্তিশালী অস্ত্র— ‘গোস্ট মার্মার’ (Ghost Murmur)। কোনো জিপিএস বা রেডিও সিগন্যাল নয়, মাইলের পর মাইল দূর থেকে শুধুমাত্র মানুষের হৃদস্পন্দনের কম্পন শনাক্ত করে এই অসাধ্য সাধন করেছে আমেরিকা।

অপারেশন ইরান: যখন শত্রু চারদিকে
ঘটনার সূত্রপাত ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। ইরানি বাহিনীর গুলিতে ধ্বংস হয় একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয়জন অর্থাৎ ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার শত্রু এলাকায় আটকা পড়েন। তাঁর কাছে ছিল মাত্র একটি পিস্তল এবং যৎসামান্য সরঞ্জাম। ইরানি সেনারা যখন তাঁকে ঘিরে ফেলার জন্য চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসে সিআইএ-র এই ‘গেম-চেঞ্জিং’ প্রযুক্তি।

কী এই ‘গোস্ট মার্মার’?
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি লং-রেঞ্জ কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি প্রযুক্তিতে কাজ করে। প্রতিটি মানুষের হৃদপিণ্ড যখন স্পন্দিত হয়, তখন তা একটি অনন্য ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনেচার তৈরি করে, যাকে বলা হয় ‘হার্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট’। লকহিড মার্টিনের গোপন বিভাগ ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’-এ তৈরি এই প্রযুক্তি বাতাসের শব্দ, ভূমিকম্পের কম্পন বা অন্য প্রাণীর হৃদস্পন্দন থেকে নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হৃদস্পন্দন আলাদা করতে পারে।

অদৃশ্য জাদুকরী উদ্ধার:
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ‘গোস্ট’ বা অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে তাঁর হৃদস্পন্দনের ছন্দ বা ‘মার্মার’ দিয়ে খুঁজে বের করা হয় বলেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘গোস্ট মার্মার’। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকে পাইলটকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তির বার্তা স্পষ্ট— “যদি আপনার হৃদপিণ্ড সচল থাকে, তবে আপনাকে খুঁজে বের করা অসম্ভব নয়।” ইরানের মতো প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানে এই প্রযুক্তির প্রথম সফল প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।