নির্বাচন কমিশনে ধুন্ধুমার! ডেরেকদের ‘বেরিয়ে যাও’ বললেন কমিশনার? দিল্লির বুকে তুলকালাম কাণ্ড

রাজধানী দিল্লিতে আজ রাজনৈতিক পারদ সপ্তমে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। ২৭ লক্ষ রাজ্যবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ নিয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টায় কমিশনের দফতরে পৌঁছান তৃণমূলের চার সাংসদ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখেল। কিন্তু বৈঠকের রেশ গড়াল চরম বিতর্কে।
মুখ্য কমিশনারের সঙ্গে সংঘাত:
বৈঠক শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করেছেন। ডেরেক দাবি করেন, “বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আমাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। একজন সাংসদকে এভাবে ‘গেট আউট’ বলা যায়? আমরা অবাক!” তৃণমূলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক মাসে কমিশনকে ৯টি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু একটিরও উত্তর মেলেনি। আজ সেই প্রশ্ন তুলতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিস্ফোরক তথ্য ও প্রমাণ:
তৃণমূল প্রতিনিধি দল আজ কমিশনের হাতে বেশ কিছু ছবি ও নথি তুলে দেয়। ডেরেক ও’ব্রায়েনের দাবি, রাজ্যের বেশ কিছু নির্বাচনী আধিকারিক এবং সিইও-র সাথে বিজেপি কর্মীদের ঘনিষ্ঠতার অকাট্য প্রমাণ (৬টি সুনির্দিষ্ট তথ্য) তাঁরা পেশ করেছেন। ডেরেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের যে আশ্বাস দিচ্ছেন, তার ভিত্তি কী? সাহস থাকলে আজকের বৈঠকের ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করুন। আমরা দেখতে চাই দেশবাসী জানুক ভেতরে কী হয়েছে।”
ধর্না থেকে বৈঠক:
উল্লেখ্য, গতকাল দুপুর থেকেই এই বৈঠক নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। সময় না পেয়ে মেনকা গুরুস্বামী ও সাকেত গোখেলরা দিল্লিতে ধর্নায় বসার হুমকি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আজ সকাল ১০টায় সময় দেয় কমিশন। কিন্তু সেই বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ হওয়ার বদলে রণক্ষেত্রের রূপ নিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূলের এই আক্রমণ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করল।