“পুরোপুরি অটোমেটিক নয় টেসলা!”-রোবোট্যাক্সি চালাতে পর্দার আড়ালে কি মানুষই ভরসা?

টেসলার বহুল চর্চিত ‘রোবোট্যাক্সি’ (Robotaxi) কি সত্যিই পুরোপুরি স্বয়ংচালিত? সম্প্রতি মার্কিন সিনেটর এড মার্কিকে পাঠানো একটি চিঠিতে টেসলা স্বীকার করেছে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের এই গাড়িগুলো দূর থেকে মানব অপারেটর বা মানুষ দিয়ে চালানো হয়।
টেসলার স্বীকারোক্তি: কখন মানুষ গাড়ি চালায়?
টেসলার ‘পাবলিক পলিসি ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের পরিচালক ক্যারেন স্টেকলি জানিয়েছেন, খুব বিরল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার খাতিরে দূরবর্তী সহায়তা অপারেটরদের (Remote Operators) গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
-
চূড়ান্ত পদক্ষেপ: যখন গাড়ির সফটওয়্যার বা অন্যান্য হস্তক্ষেপ ব্যর্থ হয়, তখনই কেবল মানুষ দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
-
গতির সীমাবদ্ধতা: অপারেটররা সাধারণত গাড়ি যখন ঘণ্টায় ২ মাইল বা তার কম গতিতে থাকে, তখন নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। সফটওয়্যার অনুমতি দিলে সর্বোচ্চ ১০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
অন্যান্য স্বয়ংচালিত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা যেমন ওয়েইমো (Waymo)-র পদ্ধতি টেসলার থেকে আলাদা। ওয়েইমো জানায়, তাদের ‘ফ্লিট রেসপন্স’ কর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে জটিল পরিস্থিতিতে গাড়িকে কেবল দিকনির্দেশনা দেন, কিন্তু তারা সরাসরি গাড়ি চালান না। অন্যদিকে, টেসলা সরাসরি নিয়ন্ত্রণের কথা স্বীকার করায় প্রযুক্তি মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ক্যামেরা বনাম সেন্সর বিতর্ক
স্বচালিত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে টেসলা শুরু থেকেই আলাদা পথ অনুসরণ করেছে। যেখানে প্রতিযোগীরা রেডার (Radar) বা লিডার (LiDAR) সেন্সর ব্যবহার করে, সেখানে এলন মাস্কের কোম্পানি কেবল ক্যামেরার (FSD System) ওপর নির্ভর করে। এই প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ইতিপূর্বেই অনেক প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে এফএসডি প্রযুক্তি নিয়ে ঘটা বেশ কিছু দুর্ঘটনার পর।
তদন্তের মুখে টেসলা
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেইফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) টেসলার এই স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে একটি বড়সড় তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করলেও সেখানে জরুরি অবস্থার জন্য মানব ‘সেফটি ড্রাইভার’ রাখা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেফটি ড্রাইভার ছাড়াই গাড়ি চালানোর আত্মবিশ্বাস পেতেই হয়তো দূরবর্তী অপারেটরের সাহায্য নিচ্ছে সংস্থাটি।