“নাতি-নাতনির দেখাশোনা থেকে চিকিৎসা”—সব কাজেই এখন ভরসা AI চ্যাটবট!

বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং বয়স্কদের স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, তাকেই বলা হচ্ছে এজ টেক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক ব্যক্তিরা এখন দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে এআই চ্যাটবট, ওয়্যারেবল ডিভাইস (স্মার্ট ওয়াচ), রোবোটিকস এবং স্মার্ট হোম প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন।

কীভাবে সাহায্য করছে এই প্রযুক্তি?

প্রবীণ প্রজন্মের জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি একাধিক ভূমিকা পালন করছে:

  • নিরাপত্তা ও নজরদারি: বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের জন্য পরিবারগুলো এখন এআই-চালিত ক্যামেরা, মোশন সেন্সর এবং জরুরি পরিস্থিতি শনাক্তকারী ডিভাইস ব্যবহার করছে। কোনো দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে এই প্রযুক্তি দ্রুত সংকেত পাঠাতে সক্ষম।

  • একাকিত্ব দূর করতে: নার্সিং হোমে থাকা প্রবীণদের একাকিত্ব কাটাতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) এবং এআই-ভিত্তিক ‘কম্প্যানিয়ন’ বা কৃত্রিম বন্ধুদের ব্যবহার বাড়ছে।

  • পেশাগত ও ব্যক্তিগত সহায়তা: ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সী অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে, নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করতে এমনকি জটিল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও তারা চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন।

  • অসুস্থদের পাশে প্রযুক্তি: বিশেষ করে স্ট্রোক আক্রান্ত বা শয্যাশায়ী রোগীদের জন্য ‘ভয়েস টাইপিং’ বা এআই-নির্ভর কেয়ারগিভিং শিডিউলার তৈরি করা হচ্ছে, যা তাঁদের জীবনকে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক করছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘায়ু জীবন নিশ্চিত করতে বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। মার্কিন সংস্থা AARP-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রবীণদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ‘এজ টেক’ খাতের বাজার আরও বিশাল হয়ে উঠবে।