আঙুলে চোট, অথচ এক্স-রে হবে হাঁটুর! ভাগলপুরের সরকারি হাসপাতালের আজব কাণ্ডে তোলপাড় নেটপাড়া

বিহারের ভাগলপুরের নয়ানগর রেফারেল হাসপাতাল আবারও এক লজ্জাজনক ঘটনার জেরে খবরের শিরোনামে। এবার এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা এবং রোগীর সাথে অভদ্র আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, পায়ের আঙুলের আঘাতের চিকিৎসা করতে গিয়ে ওই চিকিৎসক তাঁকে হাঁটুর এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। ভুল ধরিয়ে দিতে গেলে জোটে চরম অপমান এবং নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে ঘাড়ধাক্কা!
ঘটনার ভুক্তভোগী দীপক কুমার একজন হোটেল ম্যানেজার। একটি বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর বাম পায়ের বুড়ো আঙুলে গুরুতর চোট লাগে। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তিনি নয়ানগর রেফারেল হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে বহির্বিভাগে কর্মরত ডাঃ অন্বেষা তাঁকে পরীক্ষা করার পর প্রেসক্রিপশনে হাঁটুর এক্স-রে করার নির্দেশ দেন। এক্স-রে অপারেটর ভুলটি ধরতে পেরে দীপককে পুনরায় ডাক্তারের কাছে পাঠান। কিন্তু দীপক যখন এই মানবিক ভুলের কথা বলতে যান, তখনই মেজাজ হারান ওই চিকিৎসক। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “ডাক্তার আমি না কি আপনি?” এরপরই নিরাপত্তারক্ষী ডেকে দীপককে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
যদিও অভিযুক্ত ডাঃ অন্বেষা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি ছোটখাটো ‘মানবিক ত্রুটি’ ছিল। উল্টে রোগীই তাঁর ওপর চিৎকার শুরু করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের অন্য কর্মীদের হস্তক্ষেপে প্রেসক্রিপশন সংশোধন করা হয় এবং দীপকের চিকিৎসা শুরু হয়। তবে এই ঘটনা সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর আগেও এই হাসপাতালে স্ট্রেচার না পাওয়া বা জরুরি সময়ে ডাক্তার না থাকার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বারবার বিতর্কে জড়ানো এই হাসপাতালের প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবার কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।