পেটেন্ট ওষুধে ১০০% শুল্ক! ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ কি রক্ষা পাবে ট্রাম্পের কোপ থেকে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ওষুধের বাজারে কম্পন শুরু হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সাপ্লাই চেনের ঝুঁকির দোহাই দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন পেটেন্ট করা ওষুধ আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছে। ‘সেকশন ২৩২’ তদন্তের পর নেওয়া এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ভারতীয় ওষুধ শিল্পে মিশ্র হতে চলেছে। তবে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, আপাতত জেনেরিক ওষুধকে এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? হোয়াইট হাউসের মতে, আমেরিকায় ব্যবহৃত ৫৩ শতাংশ পেটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং ৮৫ শতাংশ কাঁচামাল (API) বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। কোনো যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি হলে জীবনদায়ী ওষুধের জন্য আমেরিকাকে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে—এই আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। আগামী ২০২৬ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। যে সমস্ত কোম্পানি তাদের উৎপাদন আমেরিকায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের সাময়িক ছাড় দেওয়া হবে; তবে চার বছরের মধ্যে সেই হারও ১০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে।

ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য স্বল্পমেয়াদে সুখবর হলো, মার্কিন জেনেরিক ওষুধের বাজারে ভারতের বিশাল দখল থাকায় এখনই বড় কোনো ধাক্কা লাগছে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, পেটেন্ট ওষুধ ও এপিআই (API) তৈরির কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ভারত বড় ভূমিকা পালন করে। মার্কিন শুল্কের চাপে বহুজাতিক সংস্থাগুলো যদি ভারত থেকে তাদের উৎপাদন সরিয়ে নেয়, তবে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ভারতীয় ফার্মা জায়ান্টদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।