ইরানকে ‘পাথুরে যুগে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! মার্কিন মিসাইলে ধুলোয় মিশল এশিয়ার বৃহত্তম সেতু

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল এবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইরানকে ‘পাথুরে যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। শুক্রবার মার্কিন ও সহযোগী বাহিনীর যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধুলোয় মিশে গেল মধ্য এশিয়ার উচ্চতম ও বৃহত্তম ‘বি-১’ সেতু। রাজধানী তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর কারাজকে সংযোগকারী এই বিশালাকায় স্থাপত্যটি ছিল ইরানের আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন। ১৩৬ মিটার উঁচু এই সেতুটি ধ্বংস হওয়ায় কার্যত যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নৃশংস। প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর যখন উদ্ধারকারী দল ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। এই ধ্বংসলীলার ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “ইরানের সবথেকে বড় সেতুটি ধুলোয় মিশে গেল। এটি আর কোনওদিন ব্যবহার করা যাবে না। মনে রাখবেন, আরও অনেক কিছু বাকি!” তিনি ইরানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যেন তারা আমেরিকার শর্তে ‘সমঝোতায়’ আসে।
এদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন। তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধে আমেরিকার জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। ট্রাম্পের কথায়, “বিগত পাঁচ বছর আমার শাসনে আমেরিকা কেবল জিতেই এসেছে। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও এবার আমাদের নিশানায় থাকবে।” আগামী দুই-তিন সপ্তাহ ইরান জুড়ে এই বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ‘অল আউট ওয়ার’ নীতিতে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে।