মহাকাশে ভারতের জয়গান! ৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ইতিহাস গড়ল নাসার আর্টেমিস ২

অবশেষে প্রতিক্ষার অবসান। নীল গ্রহের মায়া কাটিয়ে মহাকাশের অতল গহ্বরে পাড়ি দিলেন ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর আর্টেমিস ২ মিশনের চার সাহসী অভিযাত্রী। শুক্রবার পৃথিবীর কক্ষপথের মায়া ত্যাগ করে তাঁদের মহাকাশযানটি এখন সরাসরি চাঁদের অভিমুখী। ১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মনুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দিল, যা মানবজাতির মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়।

নাসা জানিয়েছে, ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন’ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মহাকাশযানটির মূল ইঞ্জিন টানা ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ধরে চালু রাখা হয়েছিল, যার ফলে প্রায় ৬,০০০ পাউন্ড থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি হয়। এই প্রচণ্ড শক্তির সাহায্যেই পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল ছিন্ন করে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের সঠিক দিশা খুঁজে পেয়েছে। মিশন ম্যানেজমেন্ট টিমের সবুজ সংকেত মেলার পরই এই রুদ্ধশ্বাস প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমেরিকা আবার চাঁদে ফেরার লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করল। এবার আমরা আগের চেয়েও অনেক দূরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।”

এই ঐতিহাসিক অভিযানে শামিল হয়েছেন নাসার দক্ষ মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশে তাঁদের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছে রুটিন মাফিক ব্যায়াম এবং ইঞ্জিনের যান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯বি থেকে ওড়ার পর থেকেই তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখছে মিশন কন্ট্রোল। প্রায় ১০ দিনের এই রোমহর্ষক মিশন শেষে চাঁদের চারপাশ ঘুরে প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এই চার ধ্রুবতারা। ভবিষ্যতের চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ এবং মঙ্গল অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আর্টেমিস ২ মিশনকে।