ডিএ নিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি? কালীঘাট অভিযানের ডাক সরকারি কর্মীদের, ভোটের মুখে চরম অস্বস্তিতে মমতা!

ভোটের মুখে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া ডেডলাইন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ টাকা ঢোকেনি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া অর্থাৎ কালীঘাট অভিযানের ডাক দিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সরকারের ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে আগামী ১২ এপ্রিল রাজপথে নামছেন কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারী।

সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ মিটিয়ে দেওয়ার, কিন্তু বাস্তবে কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থই জমা পড়েনি। উল্টে কর্মীদের ফোনে এমন কিছু বিভ্রান্তিকর মেসেজ আসছে, যা নিয়ে ক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, ফোনে ডিএ মেটানোর মেসেজ ঢুকলেও ব্যাংক ব্যালেন্স চেক করে দেখা যাচ্ছে তা শূন্য। এমনকি মেসেজের বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

এই বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টায় হাজরা মোড়ে বড়সড় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মিছিল করে হরিশ মুখার্জি রোড দিয়ে কালীঘাটের দিকে এগোবেন আন্দোলনকারীরা। যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কাছে এমন একটা ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে তারা কর্মীদের সব পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা মানুষকে জানাব যে এই সরকার ডাহা মিথ্যে কথা বলছে। কোনো কর্মীর অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ঢোকেনি। শুধু মেসেজ পাঠিয়ে ভাঁওতা দেওয়া হচ্ছে।”

ভাস্কর বাবু আরও জানান, এই লড়াই শুধু সরকারি কর্মীদের নয়, বরং রাজ্যের সাধারণ মানুষেরও। তাই ১২ এপ্রিলের কর্মসূচিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের সাফ কথা, নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথে গিয়ে তৃণমূল সরকারের এই ‘অসঙ্গতি’ এবং ‘বঞ্চনার’ কথা তুলে ধরা হবে। রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ কর্মীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে, ততক্ষণ রাজপথ ছাড়বেন না তাঁরা। এখন দেখার, কালীঘাট অভিযানের এই হুঙ্কারের মুখে নবান্ন কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয় কি না।