ভোররাতে ৭.৪ মাত্রার কম্পনে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া! জারি হল সুনামির সতর্কতা, আতঙ্কে স্কুলছুট পড়ুয়ারা

বৃহস্পতিবার ভোরে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে এর তীব্রতা ৭.৮ বলে জানানো হয়েছিল। কম্পনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, তড়িঘড়ি প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং মালয়েশিয়া উপকূলে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত উত্তর সুলাওয়েসির মানাদো শহরে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে (ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ১৮ মিনিট) মলুকা সাগরে এই কম্পন অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মাজু দ্বীপের কাছে, টারনাটে শহর থেকে প্রায় ১১৯ কিমি উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৬৬ কিমি (মতান্তরে ৩৫ কিমি)। শক্তিশালী এই কম্পনের জেরে উত্তর সুলাওয়েসি এবং উত্তর মলুকা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গিয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসির একটি বড় ক্রীড়া ভবন বা স্পোর্টস কমপ্লেক্স আংশিক ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও অনেক বাড়ি ও গির্জায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় ওই অঞ্চলে সবে স্কুল শুরু হয়েছিল। আতঙ্কে খুদে পড়ুয়ারা ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের উৎসস্থল থেকে ১০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিপজ্জনক ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্য়েই উত্তর মিনহাসা উপকূলে প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ছোট ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। ২০০৪ সালের সেই বিধ্বংসী সুনামির স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে এই কম্পন ফের একবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলল।