বেঙ্গালুরুতে আইটি দম্পতির মর্মান্তিক পরিণতি! স্বামীর রহস্যমৃত্যুর ২০ মিনিট পর ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ স্ত্রীর

বেঙ্গালুরু আইটি হাবের ঝকঝকে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার বাস্তব ফের সামনে এল। শহরের কোঠানুর এলাকায় এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী দম্পতির রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা ৩২ বছর বয়সি ভানু চন্দর রেড্ডি এবং তাঁর ৩১ বছর বয়সি স্ত্রী শাজিয়া সিরাজের মৃত্যুর আগের মুহূর্তগুলো জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের তালাবন্ধ শোওয়ার ঘর থেকে উদ্ধার হয় রেড্ডির নিথর দেহ। এর ঠিক ২০ মিনিট পরেই ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন শাজিয়া।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রেড্ডি এক সময় আমেরিকায় কর্মরত ছিলেন এবং বছরে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বেতন পেতেন। সেখানে তাঁর একটি বাড়িও ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) প্রভাবে কাজ হারান তিনি। বিপুল বেতনের চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তিনি গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ভারতে এসেও মনের মতো কাজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছিল। পুলিশ উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে দেখেছে, চাকরি হারানো এবং ক্রমবর্ধমান দুশ্চিন্তাই রেড্ডিকে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে। অথচ শাজিয়া আইবিএম-এ চাকরি পাওয়ার পর গত আট মাস আগে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চলে এসেছিলেন এবং স্ত্রীকে সবরকম সহযোগিতা করতেন রেড্ডি।
এই দম্পতির মৃত্যুর নেপথ্যে কেবল পেশাগত ব্যর্থতা নয়, ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতাও উঠে আসছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বিয়ে করলেও শাজিয়া তাঁর নিজের পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। কেবল রেড্ডির বাবা-মা এই সম্পর্কের কথা জানতেন। সমাজ ও পরিবারের ভয়েই তাঁরা হায়দরাবাদ ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন সকালে নাইট শিফট সেরে ফিরে শাজিয়া দরজা ভেঙে স্বামীর দেহ দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্বামীর দেহ উদ্ধারের পর প্রায় ২০ মিনিট তিনি ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। এরপর নিঃশব্দে লিফটে করে ১৮ তলায় উঠে মরণঝাঁপ দেন। উচ্চাভিলাষী জীবনের হাতছানি আর তার আড়ালের একাকীত্বই কি এই পরিণতির মূল কারণ? তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।