কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর নাকি বড় চমক? DA বৃদ্ধিতে বিলম্বের আসল রহস্য ফাঁস!

জানুয়ারি মাসের মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধির প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা। ক্যালেন্ডারের পাতায় মার্চ পেরিয়ে এপ্রিল শুরু হয়ে গেলেও এখনও কেন্দ্রের তরফ থেকে আসেনি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সাধারণত প্রতি বছর মার্চ মাসের মধ্যেই এই ঘোষণা হয়ে যায়, তবে এবার বিলম্ব হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দোরগোড়ায় কোনো বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে?
কেন এই বিলম্ব? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? দিল্লি সূত্রে খবর, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই মহার্ঘভাতা নিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারে মোদি সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দেরি মোটেও অস্বাভাবিক নয়। জানুয়ারি মাসের ডিএ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। তবে এবারের বিলম্বের নেপথ্যে অন্য একটি সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে—আর তা হলো বেসিক বেতনের সাথে ডিএ-র একত্রীকরণ এবং অষ্টম বেতন কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
কতটা বাড়তে পারে আপনার বেতন? ভোক্তা মূল্য সূচক বা অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর তথ্য অনুযায়ী, এবার ডিএ ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ৩ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে বর্তমান ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে তা ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির হার পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অষ্টম বেতন কমিশন ও ডিএ একত্রীকরণ: ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে এখনও চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মেলেনি। নিয়ম অনুযায়ী, ডিএ ৫০ শতাংশ অতিক্রম করলে তা মূল বেতনের (Basic Pay) সাথে যুক্ত হওয়ার কথা। এই জটিল হিসাব-নিকাশ এবং বেতন কাঠামো ঢেলে সাজানোর কারণেই ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণের পদ্ধতিতেও আসতে পারে আমূল পরিবর্তন।
আর্থিক বোঝা ও দক্ষতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ: শ্রম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক ছিল ১৪৮.২। মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জানুয়ারি ও জুলাই—বছরে দুবার ডিএ বাড়ানো হয়। তবে ‘OneBanc’-এর বিশেষজ্ঞ বিভোর গয়াল আর্থিক উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বেতন ও পেনশন খাতে বছরে ৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, যা জিডিপি-র প্রায় ১.২ শতাংশ। তাই কেবল ডিএ বৃদ্ধি নয়, সরকারি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বেতন কাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে বিলম্ব হলেও কর্মচারীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই, কারণ তাঁরা জানুয়ারি মাস থেকেই বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear) হিসেবে বর্ধিত টাকা পেয়ে যাবেন।