পেট্রোলের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা? এই ৭টি সহজ ট্রিকসেই অর্ধেক হবে আপনার গাড়ির জ্বালানি খরচ!

ক্রমাগত বাড়তে থাকা পেট্রোল-ডিজেলের দামে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। পকেট বাঁচাতে অনেকেই এখন গাড়ি বা বাইক বের করতে দুবার ভাবছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ড্রাইভিং করার সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে ফেললেই জ্বালানি খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব? সঠিকভাবে গাড়ি চালানো শুধু আপনার টাকা বাঁচাবে না, বাড়াবে ইঞ্জিনের আয়ুও।

জ্বালানি সাশ্রয় করার ৭টি অব্যর্থ কৌশল জেনে নিন:

১. হঠাত গতি বাড়ানো বা ব্রেক করা বন্ধ করুন

রাস্তায় হঠাত করে রকেটের গতিতে গাড়ি ছোটানো কিংবা কষে ব্রেক ধরা—এই দুই অভ্যাসই জ্বালানির চরম অপচয় ঘটায়। সবসময় ধীরে ধীরে গতি বাড়ান এবং মসৃণভাবে ব্রেক করার চেষ্টা করুন। এতে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে এবং তেলের খরচ কমে।

২. স্থির গতিতে গাড়ি চালান

খুব বেশি গতিতে গাড়ি চালালে বাতাসের বাধার কারণে ইঞ্জিনের শক্তি বেশি লাগে, ফলে তেলও পোড়ে বেশি। চেষ্টা করুন একটি মাঝারি ও স্থির গতি বজায় রাখতে। হাইওয়েতে ইকোনমি মোডে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ মাইলেজ পাওয়া যায়।

৩. জ্যামে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন

ট্রাফিক সিগন্যালে বা কোথাও এক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ইঞ্জিন চালু রাখবেন না। অলসভাবে ইঞ্জিন চালু থাকলে অপ্রয়োজনীয় লিটার লিটার জ্বালানি নষ্ট হয়। আধুনিক অনেক গাড়িতে এখন ‘অটো স্টার্ট-স্টপ’ ফিচার থাকে, যা এই অপচয় রোধ করে।

৪. টায়ারের হাওয়া পরীক্ষা করুন

টায়ারে বাতাসের চাপ কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, ফলে গাড়ি টানতে ইঞ্জিনের বেশি শক্তি বা জ্বালানি প্রয়োজন হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ারের প্রেশার চেক করা জরুরি।

৫. গাড়ির বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলুন

গাড়ির ডিকিতে বা বাইকের ক্যারিয়ারে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র রাখবেন না। গাড়ির ওজন যত বেশি হবে, ইঞ্জিনকে তত বেশি কসরত করতে হবে এবং তেলের খরচও পাল্লা দিয়ে বাড়বে।

৬. সময়মতো সার্ভিসিং

নোংরা এয়ার ফিল্টার বা পুরনো স্পার্ক প্লাগ জ্বালানি পানের নেশা বাড়িয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট কিলোমিটার অন্তর ইঞ্জিন টিউনিং ও সার্ভিসিং করান। সুস্থ ইঞ্জিন মানেই সাশ্রয়ী মাইলেজ।

৭. ছোট দূরত্বে গাড়িকে বিশ্রাম দিন

পাড়ার মোড়ে দোকানে যেতে বা খুব কাছের গন্তব্যে গাড়ি বা বাইক ব্যবহার না করে হাঁটার অভ্যাস করুন অথবা সাইকেল চালান। এতে পেট্রোল যেমন বাঁচবে, তেমনি আপনার শরীরও থাকবে চাঙ্গা।

সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার মাসিক বাজেটে বড় স্বস্তি এনে দিতে। আজ থেকেই এই নিয়মগুলো মেনে চলুন এবং তফাতটা নিজেই অনুভব করুন।