কমলা আলোয় জ্বলছে আকাশ! ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতে ইরানের ধ্বংসলীলা, কাঁপছে গোটা বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আজ বারুদের গন্ধে ভারী। ৩০ মার্চ গভীর রাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে নেমে এল ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে যুদ্ধের একটি শিউরে ওঠা ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণে রাতের আকাশ কমলা বর্ণ ধারণ করেছে। যদিও ট্রাম্প ভিডিওর উৎস স্পষ্ট করেননি, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে এটি ইরানের সামরিক হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত ইসফাহানের দৃশ্য।
কেন এই ভয়ংকর হামলা?
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বায়ুসেনা প্রায় ২,০০০ পাউন্ড (৯০৭ কেজি) ওজনের শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে এই অপারেশন চালিয়েছে। আমেরিকার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ইরান তাদের ৫৪০ কেজি উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইসফাহানের একটি দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছে। মাটির নিচে থাকা সেই গোপন আস্তানা ধ্বংস করতেই এই ‘পেনিট্রেটর মিউনিশনস’ বা বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি:
গত সোমবারই ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যদি দ্রুত কোনো শান্তি চুক্তি না হয়, তবে ইরানের জ্বালানি প্রকল্প, পারমাণবিক পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” ইসফাহানের এই হামলা সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। ইসফাহান শহর, যেখানে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষের বাস, সেখানে এই মাত্রার বিস্ফোরণ সাধারণ মানুষের মনেও প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি:
যুদ্ধ আজ দ্বিতীয় মাসে পা দিল। এই হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এখন চরমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠকে বসেছেন। তবে ট্রাম্প ও ইজরায়েল অনড়—ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। এই সামরিক সংঘাত এখন পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।