ইন্দিরার এক ভুলেই দেশে মাওবাদের বিষবৃক্ষ! লোকসভায় বিস্ফোরক অমিত শাহ

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে মাওবাদ বা বামপন্থী চরমপন্থা দীর্ঘকাল ধরে এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কংগ্রেসের পূর্বতন নীতি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই কাঠগড়ায় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার লোকসভায় এক তপ্ত অধিবেশনে শাহ দাবি করেন, দেশে মাওবাদের এই বাড়বাড়ন্তের বীজ বপন করা হয়েছিল কয়েক দশক আগে, যা আজ মহীরুহের আকার ধারণ করেছে।
ইন্দিরা গান্ধি ও ১৯৬৯-এর সেই নির্বাচন অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে ফিরে যান ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় নিজের পছন্দের প্রার্থী ভিভি গিরিকে জেতাতে ইন্দিরা গান্ধি যে বামপন্থী আদর্শের মদত নিয়েছিলেন, তা কার্যত দেশে মাওবাদীদের অক্সিজেন যুগিয়েছিল। শাহের কথায়, “উন্নয়নের অভাবে মাওবাদ মাথাচারা দিয়েছে—এমন ধারণা ভুল। আদতে রাজনৈতিক স্বার্থে বামপন্থী চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফল আজ দেশ ভুগছে।” উল্লেখ্য, সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী নীলম সঞ্জীব রেড্ডির বিরুদ্ধে নিজের প্রার্থীকে জেতাতে ‘বিবেকের ভোটে’র ডাক দিয়েছিলেন ইন্দিরা, যা ভারতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
কংগ্রেসের ৬০ বছর বনাম মোদি জমানার সাফল্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় ৬০ বছর দেশ শাসন করেছে কংগ্রেস। কিন্তু মাওবাদ দমনে তাদের কোনো সদিচ্ছা ছিল না। ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলসহ ১২টি রাজ্য একসময় ‘রেড করিডর’-এ পরিণত হয়েছিল। শাহের দাবি, কংগ্রেস জমানায় প্রায় ২১ হাজার মানুষ এই সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের অন্ধকারে ডুবে ছিলেন। আদিবাসীদের ন্যূনতম পানীয় জলটুকুও দেয়নি পূর্বতন সরকার। তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আজ সেই আদিবাসী জনপদে উন্নয়নের আলো পৌঁছেছে এবং মাওবাদ আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে।
মনমোহন সিংকে নিশানা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকেও রেয়াত করেননি অমিত শাহ। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মনমোহন সিং নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে মাওবাদ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কাশ্মীরের থেকেও বড় বিপদ। শাহ প্রশ্ন তোলেন, “বিপদের কথা জানলে কেন তার প্রতিকারে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?”
অমিত শাহ দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সন্ত্রাস সম্পূর্ণ নির্মূল করার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নিয়েছিল, তা প্রায় সফল। বাস্তারের মতো দুর্গম এলাকায় যেখানে উন্নয়নের কাজ থমকে ছিল, সেখানেও এখন উন্নয়নের চাকা ঘুরছে।