বিরাট অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েও কেন ব্রাত্য জিনিয়াস স্পোর্টস? কেপিএমজি-র হাতে ঝুলে ভারতীয় ফুটবলের ভাগ্য

ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) ইতিহাসে সম্ভবত সবথেকে বড় বিনিয়োগের হাতছানি এসেছিল। ২০ বছরে প্রায় ২১২৯ কোটি টাকা (যা ডলারের নিরিখে ২২০০ কোটি ছাড়াতে পারে) বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছিল লন্ডনের বিশ্ববিখ্যাত সংস্থা ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’। ফিফা ও উয়েফার মতো মঞ্চে কাজ করা এই সংস্থার হাত ধরে দেশের ফুটবল মানচিত্র বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ‘স্বচ্ছতা’র যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার মুখে।

টেন্ডার যুদ্ধ ও বিতর্কের সূত্রপাত: ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে আইএসএল (ISL) ও ফেডারেশন কাপের মার্কেটিং পার্টনার হিসেবে টেন্ডার ডেকেছিল এআইএফএফ (AIFF)। সেখানে জিনিয়াস স্পোর্টসের ২২০০ কোটির বিপরীতে ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্যানকোড’ প্রস্তাব দেয় মাত্র ১১৯০ কোটি টাকার। নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ব্রিটিশ সংস্থারই দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু আইএসএলের কিছু ক্লাব এবং ফেডারেশন কর্তারা চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি শর্ত ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় জল ঘোলা হতে শুরু করে।

তদন্তের ভার কেপিএমজি-র হাতে: রবিবার দিল্লিতে কল্যাণ চৌবে-র নেতৃত্বে এক ম্যারাথন বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পেশাদার সংস্থা ‘কেপিএমজি’ (KPMG)। ক্লাব কর্তারা সরাসরি সংস্থাগুলিকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন এবং শেষে একটি স্পেশাল জেনারেল মিটিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হবে। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিসিসিআই যেখানে বাণিজ্যিক চুক্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে ফুটবলে এত ধাপের যাচাই-বাছাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত কি ‘অতিরিক্ত স্বচ্ছতা’র দোহাই দিয়ে ভারতীয় ফুটবল তার উন্নতির সেরা সুযোগটি হারাবে? উত্তর দেবে সময়।