বিদেশিদের রাজত্বে কি কোণঠাসা বাঙালি ফুটবলাররা? বিস্ফোরক ইস্ট-মোহন দুই প্রধানের তারকারা

কলকাতা ফুটবলের আবহমান ঐতিহ্যে বিদেশি ফুটবলারদের যোগদান নতুন কিছু নয়। চিমা ওকেরি থেকে শুরু করে জোসে ব্যারেটো—ময়দান বারেবারে মেতেছে বিদেশি ম্যাজিকে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল, দুই প্রধান ক্লাবের সমীকরণ বলছে, দলের অন্দরমহলে বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা এখন আকাশছোঁয়া। দিমিত্রি পেত্রাতোস কিংবা ইউসুফ এজেজারিদের দাপটে কি তবে ম্লান হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রতিভারা? এই জ্বলন্ত প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ময়দানের গ্যালারি থেকে ড্রেসিংরুমে।

সবুজ-সবুজে বিদেশি স্তম্ভ: মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে এখন দিমিত্রি পেত্রাতোস মানেই ভরসা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ—সবটাই যেন তাঁর নিয়ন্ত্রণে। রক্ষণে আবার আলবার্তো রদ্রিগেজ আর টম অলড্রেড দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বাগান অধিনায়ক শুভাশিস বসু এক সাক্ষাৎকারে জানান, “বিদেশিদের ফিটনেস আর পজিশনিং সেন্স আমাদের অনেক কিছু শেখায়। বিশেষ করে বড় ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখার কৌশল ওদের থেকে রপ্ত করা যায়। তবে হ্যাঁ, দেশি ফুটবলারদেরও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়াটা সমান জরুরি।”

লাল-হলুদেও একই ছবি: ইস্টবেঙ্গলের চিত্রটাও খুব একটা আলাদা নয়। ইউসুফ এজেজারির গোলক্ষুধা কিংবা সাউল ক্রেসপো ও মিগুয়েল ফিগেইরার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই এখন দলের আসল অস্ত্র। দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার সৌভিক চক্রবর্তী মনে করেন, “বিদেশিদের আগমনে প্রতিযোগিতা বাড়ে, যা আমাদের আরও উন্নতি করতে সাহায্য করে। তবে ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য দেশি আর বিদেশিদের মধ্যে একটা সঠিক ভারসাম্য থাকা দরকার।”

জাতীয় দলের জন্য অশনি সংকেত? বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিদেশিদের এই অতি-নির্ভরতা তরুণ ভারতীয় ফুটবলারদের গেম-টাইম কমিয়ে দিচ্ছে। যদি ক্লাব ফুটবলে দেশি স্ট্রাইকার বা মিডফিল্ডাররা সুযোগ না পান, তবে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়—সাফল্যের শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে আমরা কি আমাদের নিজস্ব প্রতিভাদের মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখছি না তো?