একদিনেই লক্ষ কোটি টাকা সাফ! ধসে পড়ল ব্যাঙ্ক ও ফিন্যান্স শেয়ার, বিপাকে লগ্নিকারীরা

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কালো মেঘ এবার আছড়ে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই দালাল স্ট্রিটে আক্ষরিক অর্থেই ‘রক্তস্নান’ দেখল বিনিয়োগকারীরা। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করতেই বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জেরে সেনসেক্স এক ধাক্কায় ১৩৫০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। পাল্লা দিয়ে নিফটিও ২২,৪০০-র স্তরের নিচে নেমে আসায় লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এদিনের পতনের মূলে ছিল ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক খাতের শেয়ারগুলির ব্যাপক দরপতন। দুপুর ২টো নাগাদ নিফটি-৫০ সূচকটি ১.৭২ শতাংশ কমে ২২,৪২৬.৭৫-এ এবং সেনসেক্স ১.৮১ শতাংশ কমে ৭২,২৫২.৭৬-এর ঘরে ঘোরাফেরা করছিল। শুধু বড় শেয়ার নয়, নিফটি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচক দুটিও যথাক্রমে ১.৯৫% এবং ২.৩১% হ্রাস পেয়েছে। বিশেষত নিফটি ব্যাঙ্ক এবং নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সূচক দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একমাত্র মেটাল বা ধাতু খাতের শেয়ারগুলি কিছুটা লড়াই দিলেও বাজারের সামগ্রিক পতন রুখতে তা ব্যর্থ হয়।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছবিটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (Kospi) সূচক ৫.৩% এবং জাপানের নিক্কেই (Nikkei) ৪.৩৬% পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইজরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬.১২ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারিও লগ্নিকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ভূ-রাজনৈতিক এই ঘূর্ণাবর্তে দিশেহারা ভারতীয় শেয়ার বাজার।