বিজয়গড়ে জনসমুদ্র, ব্যারিকেড দিয়েও সামলানো গেল না ভিড়! রাহুলের শেষ বিদায়ে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির

রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পীসত্তার জয়গান গাইল তিলোত্তমা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিল টলিউড থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের চেনা সমীকরণগুলোকে। সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন দীঘা থেকে রাহুলের দেহবাহী বিশেষ গাড়িটি বিজয়গড়ের ৬/৮৮-এর ফ্ল্যাট বাড়ির সামনে এসে পৌঁছাল, তখন সেখানে কেবল শোকের ছায়া নয়, ছিল এক বিরল ঐক্যের ছবি। যদিও রাহুল নিজে একটি নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু তাঁর শেষযাত্রায় এক হয়ে গেল লাল-সবুজ-গেরুয়া সমস্ত শিবিরের প্রতিনিধিরা। প্রিয় সহকর্মীকে শেষবার দেখতে বিজয়গড়ে মানুষের ঢল নেমেছিল, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কলকাতা পুলিশকে।

সকাল থেকেই রাহুলের বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম, রবীন দেব ও কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়। রাজনীতির ময়দানে কড়া প্রতিপক্ষ হলেও রাহুলের মতো এক শিক্ষিত ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোকাতুর সকলেই। কান্না চেপে রাখতে পারেননি চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাহেব চট্টোপাধ্যায়। শোকস্তব্ধ মুখে একে একে উপস্থিত হন আবির চট্টোপাধ্যায়, রূপম ইসলাম, শ্রীজাত, ইশা সাহা এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজে রাহুলের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন শ্রাবন্তী।

রবিবার তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রাহুল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জলে ডুবে মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর মূল্যায়ন করতে গিয়ে ঊষসী চক্রবর্তী আবারও বলেন, “এই সময়ে দাঁড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা রেখে কথা বলার মানুষ সত্যিই বিরল হয়ে গেছে। ওঁর এই নির্ভীক অবস্থানই আমাদের প্রেরণা ছিল।” শেষ পর্যন্ত ফুলে সজ্জিত শকট রাহুলকে নিয়ে রওনা দেয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশে। সেখানেই সম্পন্ন হবে টলিউডের এই প্রতিভাবান ও স্পষ্টবক্তা অভিনেতার শেষকৃত্য।