রাহুল নেই, স্তম্ভিত টলিপাড়া! ‘মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলার মানুষটা হারিয়ে গেল’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন উষসী

টলিউডের আকাশে অকাল মেঘের ঘনঘটা। মাত্র কয়েকদিনের শ্যুটিং সফর যে এভাবে ট্র্যাজেডিতে শেষ হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি টলিউড। গত ২৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল শ্যুটিং, পরিকল্পনা ছিল ৩০ তারিখ কাজ সেরে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোমবার দুপুরে ফিরল কেবল তাঁর নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর শববাহী গাড়িতে করে যখন রাহুলকে তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে আনা হয়, তখন প্রিয় অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। তালসারির নীল নির্জনতায় উদয়ের আগেই নিভে গেল অরুণোদয়— এই সত্যিটা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।

রাহুলের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁরা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, এটি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ক্ষতি। ইন্ডাস্ট্রিতে এত ভালো মানুষ এবং তার ওপর এত শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব সত্যিই বিরল। তাঁর ব্যক্তিত্ব আমাদের আজীবন মনে থাকবে।” অন্যদিকে, অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তীর কণ্ঠে ঝরে পড়ল হাহাকার। তিনি রাহুলকে কেবল সহকর্মী নয়, বরং ‘সহযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উষসী জানান, “রাহুল ভাই অভিনেতা হিসেবে কেমন ছিলেন তা মূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে এই সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে, মেরুদণ্ড সোজা করে সত্যি কথা বলার মতো মানুষ খুব কমে গিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর নির্ভীক অবস্থান আমাকে অনুপ্রেরণা দিত। জানি না এই অনুপ্রেরণা আর কোথায় পাব।”

পরিচালক রাজ চক্রবর্তী রাহুলের বহুমুখী প্রতিভার কথা স্মরণ করে বলেন, “ওর মতো পড়াশোনা জানা, ভালো লিখতে পারা এবং নাটকের প্রতি টান থাকা মানুষ খুব কম আছে। ওর একটি ছোট ছেলে আছে, আমি ওর পরিবারের কথা ভাবছি। এটা গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” শোকাতুর অভিনেতা দেবও প্রিয় সহকর্মীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে হয়তো খুব গভীর বন্ধুত্ব ছিল না, কিন্তু অভিনেতা হিসেবে আমি ওঁর গুণমুগ্ধ ছিলাম। টলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেতা ছিলেন তিনি। বাংলা দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রি আজ একজন রত্নকে হারাল।” টলিপাড়ার এই শোকের আবহ জানান দিচ্ছে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব দিয়ে এক বিশাল শূন্যস্থান তৈরি করে গেলেন।