পদ্মভূষণে সম্মানিত অলকা ইয়াগনিক! বড় প্রাপ্তির দিনেও কেন গায়িকার গলায় বিষণ্ণতার সুর?

নব্বইয়ের দশকের বলিউডের সোনালী কণ্ঠ অলকা ইয়াগনিক। দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ারে ২০ হাজারের বেশি গান উপহার দিয়ে তিনি এবার ভূষিত হলেন ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে। কিন্তু এই আলোর নিচেও জমে আছে এক পাহাড় সমান আক্ষেপ আর শারীরিক লড়াইয়ের কাহিনি।
মেয়ের মুখেই প্রথম সুখবর:
পদ্ম সম্মানের মতো এত বড় প্রাপ্তির খবর অলকা নিজে প্রথম জানতে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে সায়শা প্রথম তাঁকে এই সুখবরটি দেন। ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও শিল্পীর গলায় ছিল এক অদ্ভুত স্থিরতা। সম্মান যখনই আসুক, তা সবসময়ই আনন্দের— এই সহজ সত্যিটিই উঠে এল তাঁর কথায়।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আক্ষেপ:
যাঁকে একসময় ‘মেলোডি কুইন’ বলা হতো, সেই অলকা আজকের মিউজিক ট্রেন্ড নিয়ে বেশ চিন্তিত। বর্তমানে র্যাপ আর রিমিক্সের ভিড়ে সুর যেন হারিয়ে গিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আজকের মিউজিক তার আত্মা হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের শোনার মতো অন্তত কিছু প্রাণবন্ত ও আত্মিক সুর ফিরে আসা উচিত।”
এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প:
ভক্তরা লক্ষ্য করেছেন, গত কয়েক বছর ধরে অলকা জনসমক্ষ থেকে কিছুটা দূরে। এর নেপথ্যে রয়েছে এক শারীরিক জটিলতা। ২০২৪ সালে শিল্পী নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি এক বিরল ‘সেন্সরি নিউরাল হেয়ারিং লস’ (Hearing Disorder) বা শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। একটি ভাইরাল অ্যাটাকের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণেই নতুন কোনো রেকর্ডিং তিনি করতে পারছেন না। অনেক সুরকার প্রস্তাব দিলেও অসুস্থতার কারণে তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। ২০২৪-এ ‘অমর সিং চমকিলা’ ছবিতে এ.আর. রহমানের সুরেই শেষবার তাঁর কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল।
গিনেস রেকর্ড ও জনপ্রিয়তা:
অসুস্থতা থাকলেও অলকা ইয়াগনিকের জনপ্রিয়তা আজও বিশ্বসেরা। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ইউটিউবে বিশ্বজুড়ে সবথেকে বেশি স্ট্রিম হওয়া শিল্পী হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন তিনি। বিটিএস (BTS) বা টেলর সুইফটের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে তিনি প্রমাণ করেছেন, ভারতীয় মেলোডির টান আজও অটুট।