পুরুলিয়ায় মমতার সভার ২৪ ঘণ্টায় ‘খেলা’ ঘোরাল বিজেপি! গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন বেগুনকোদরের জনপ্রিয় ‘স্যার’

লোকসভা ভোটের মুখে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে তুলল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় বেগুনকোদর অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন শিক্ষক আশীষ কর্মকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক শিক্ষকতার মাধ্যমে অগণিত ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়া এই ব্যক্তিত্বের সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ স্থানীয় মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।
কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই যোগদান?
বেগুনকোদর এলাকায় আশীষ কর্মকার পরিচিত ‘স্যার’ হিসেবে। কেবল পাঠ্যবই নয়, জীবনবোধ ও নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার জন্য প্রাক্তন ছাত্রদের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুরুলিয়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলায় একজন উচ্চশিক্ষিত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষের যোগদান দলের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিজেপিতে আস্থা:
বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে প্রাক্তন শিক্ষক আশীষ কর্মকার তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন শাসকদলের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন:
দুর্নীতির প্রতিবাদ: তৃণমূল জমানায় এলাকায় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং প্রকৃত উন্নয়নের অভাব তাঁকে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করেছে।
বিজেপির আদর্শ: প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক চিন্তাধারা এবং স্বচ্ছ শাসনের প্রতি আস্থা রেখেই তিনি গেরুয়া শিবিরকে বেছে নিয়েছেন।
সামাজিক অবদান: শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর গ্রামীণ উন্নয়ন ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
পুরুলিয়ায় পাল্টাবে সমীকরণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সভার পরক্ষণেই এমন যোগদান বিজেপির কাছে একটি বড় নৈতিক জয়। বিশেষ করে শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে আশীষ কর্মকারের মতো ব্যক্তিত্বকে সামনে রাখা বিজেপির সুপরিকল্পিত চাল বলেই মনে করা হচ্ছে।