কেন এই আমের নাম ‘ল্যাংড়া’? বারাণসীর এক ফকিরের আস্তানা থেকে বিশ্বজয়ের অবিশ্বাস্য কাহিনী জানুন

আম মানেই বাঙালির আবেগ। আর সেই তালিকায় যদি থাকে ল্যাংড়া, তবে তো কথাই নেই! কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, এত সুস্বাদু আর রাজকীয় একটি ফলের নাম এমন অদ্ভুত কেন? এর পিছনে লুকিয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এক চমকপ্রদ লোককথা। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী বা বেনারসের মাটি থেকেই এই আমের জয়যাত্রা শুরু।

নামকরণের নেপথ্যে ৩টি জনপ্রিয় কাহিনী:

ল্যাংড়া ফকিরের গল্প: আঠারো শতকে বারাণসীর এক জনৈক ফকিরের আস্তানা থেকে এই আমের জাতটি প্রথম সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই ফকির শারীরিক প্রতিবন্ধী বা ‘খোঁড়া’ ছিলেন বলেই তাঁর হাতের জাদুতে ফলানো এই আমের নাম হয়ে যায় ‘ল্যাংড়া’।

মন্দিরের পুরোহিতের স্মৃতি: অন্য এক জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারাণসীর এক মন্দিরের এক ল্যাংড়া পূজারি প্রথম এই আমের চাষ করেন। বেনারসের রাজা এই আমের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে সেই পুরোহিতের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আমটির নাম রাখেন ‘ল্যাংড়া’।

কৃষকের পরিচয়: অনেকে মনে করেন, বারাণসীর এক সাধারণ কৃষক তাঁর বাড়ির পেছনের বাগানে পরম যত্নে এই গাছটি বড় করেছিলেন। তিনিও ল্যাংড়া ছিলেন বলেই আমটি এই নামে পরিচিতি পায়।

ল্যাংড়া আমের কিছু ‘খাস’ বৈশিষ্ট্য:

সবুজেই বাজিমাত: এই আমের বিশেষত্ব হলো এটি পাকার পরেও খোসা সবুজই থাকে। হলুদ হওয়ার অপেক্ষা করলে কিন্তু আপনি আসল স্বাদ হারাবেন!

আঁশহীন ও মিষ্টি: অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত এই আমে আঁশ প্রায় থাকেই না। মুখে দিলেই মাখনের মতো গলে যায়।

বাজারের সময়: মূলত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই আমের সেরা সময়।

আম নিয়ে আরও কিছু অজানা তথ্য:

১. বিশ্বের দামি আম: জাপানের ‘মিয়াজাকি’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম, যা দেখতে টকটকে লাল বা বেগুনি রঙের হয়।
২. বৌদ্ধ যোগ: কথিত আছে, গৌতম বুদ্ধ আমগাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পছন্দ করতেন, তাই বৌদ্ধ ধর্মে এই ফলের গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. বন্ধুত্বের উপহার: ভারতীয় সংস্কৃতিতে এক ঝুড়ি আম উপহার দেওয়াকে গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।