বড় ঘোষণা! ২০২৭-এর জনগণনায় বদলে যাচ্ছে নিয়ম, ‘লিভ-ইন’ সঙ্গীদের কি বিবাহিত তকমা দিচ্ছে কেন্দ্র?

২০২৭ সালের আসন্ন ডিজিটাল জনগণনায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। এবার থেকে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে থাকা যুগলদেরও ‘বিবাহিত’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। স্ব-গণনা (Self-Enumeration) পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সামাজিক কাঠামোর বিবর্তনকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন নিয়মাবলীতে কী বলা হয়েছে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনও লিভ-ইন যুগল নিজেদের সম্পর্ককে ‘স্থিতিশীল’ বলে মনে করেন, তবে তাঁরা নিজেদের ‘বিবাহিত’ দম্পতি হিসেবে নথিবদ্ধ করতে পারবেন। এর জন্য কোনো আইনি নথি বা বিয়ের প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হবে না। উত্তরদাতা তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী যে তথ্য দেবেন, গণনাকারীরা (Enumerators) সেটিই নথিবদ্ধ করতে বাধ্য থাকবেন।

হাউস-লিস্টিং পর্ব ও সময়সীমা:

সময়কাল: ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪৫ দিন ধরে চলবে এই পর্ব।

প্রশ্নমালা: বাড়ি তালিকাভুক্তকরণ বা ‘হাউস-লিস্টিং’ পর্বে মোট ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে, যার মধ্যে একটি হলো পরিবারে বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা কত।

বিভাজন: প্রথম ১৫ দিন বরাদ্দ থাকবে সাধারণ মানুষের ‘স্ব-গণনা’র জন্য এবং পরবর্তী ৩০ দিন গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন।

স্ব-গণনা প্রক্রিয়া ও জিও-ট্যাগিং:
১ এপ্রিল থেকে দিল্লির NDMC এলাকায় বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। OTP-ভিত্তিক যাচাইকরণের মাধ্যমে পরিবারের প্রধান বা কোনো দায়িত্বশীল সদস্য তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘জিও-ট্যাগিং’। ব্যবহারকারীকে ম্যাপে তাঁর বাড়ির সঠিক অবস্থান নির্দেশ করতে হবে। অবস্থান ভুল চিহ্নিত করলে তথ্য গণনাকারীর সিস্টেমে পৌঁছাবে না।

তথ্য সুরক্ষা ও জমা:
পোর্টালে পূরণ করা তথ্যগুলো ‘এনক্রিপ্ট’ করা থাকবে এবং সুরক্ষিত সরকারি সার্ভারে জমা হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি ‘SE ID’ তৈরি হবে, যা গণনাকারী বাড়িতে এলে তাঁকে দেখাতে হবে। তবে একবার তথ্য জমা পড়ে গেলে, তাতে কোনো পরিবর্তন কেবল গণনাকারীই করতে পারবেন।