টিনটিনের কুট্টুস একা হয়ে গেল! রাহুল নেই বিশ্বাস করতে পারছে না প্রিয় সারমেয়, করুণ দশা দেখে বাড়িতে ছুটলেন চিকিৎসক

সে কথা বলতে পারে না ঠিকই, কিন্তু বিচ্ছেদ আর শোকের ভাষা বুঝতে তার বিন্দুমাত্র ভুল হয় না। আনন্দ হলে যে লেজ নাড়িয়ে সারা বাড়ি মাথায় করত, আজ সেই লেজ গুটিয়েই ঘরের এক কোণে পাথর হয়ে বসে আছে সে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয় পোষ্য ‘কুট্টুস’ এখন একা। যার কোলে চড়ে চলত হাজারো আবদার, সেই চিরচেনা আশ্রয়টুকু যে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে, তা যেন হাড়হাড়েই টের পাচ্ছে অবলা প্রাণীটি।

শোকে পাথর কুট্টুস:
রাহুলের অকাল প্রয়াণে যখন তাঁর বাড়ি জুড়ে মানুষের ভিড়, কান্নার রোল— তখন এক কোণে চুপচাপ বসে আছে কুট্টুস। মাঝে মাঝে শুধু লেজটা নড়ছে, কিন্তু ডাক নেই, চঞ্চলতা নেই। অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত জানান, গতকাল রাতে রাহুলের বাড়ি গিয়ে তিনি কুট্টুসের এই অবস্থা দেখে কার্যত শিউরে ওঠেন। সারমেয়টির চোখ যেন ভিড় ঠেলে শুধু তাঁর প্রিয় রাহুলকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে।

চিকিৎসকের শরণাপন্ন দেবলীনা:
কুট্টুসের এই অস্বাভাবিক শান্ত ভাব দেখে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দেবলীনা। তাঁর আশঙ্কা, প্রিয় মানুষের বিচ্ছেদে গভীর ‘ট্রমা’-য় চলে গিয়েছে ছোট্ট প্রাণীটি। তাই সোমবার সকালেই পশু চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে রাহুলের বাড়িতে হাজির হন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, মানুষের মতো চিৎকার করে কাঁদতে না পারলেও কুট্টুসের ভেতরে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তার জন্য এখন বিশেষ যত্ন ও স্নেহের প্রয়োজন।

টিনটিন আর তার কুট্টুস:
জনপ্রিয় কমিকস চরিত্র টিনটিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিল কুট্টুস। সেই নামেই ভালোবেসে নিজের পোষ্যর নামকরণ করেছিলেন রাহুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই কুট্টুসকে নিয়ে ছবি পোস্ট করতেন অভিনেতা, লিখতেন তাঁদের বন্ধুত্বের কথা। পর্দার ‘টিনটিন’ আজ না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন, আর বাস্তবের কুট্টুস এখন নিথর চোখে সেই ফেরার পথ চেয়ে বসে।