বিশেষ: ২৮ দিনেও মাথা নোয়াতে নারাজ, কোন কোন অস্ত্রের ভরসায় লড়ছে ইরান?

গত ২৮ দিন ধরে চলছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী হামলা। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের বহু সামরিক ঘাঁটি ও বহুতল ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও কেন দমে যাচ্ছে না ইরান? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তুরুপের তাস হলো তাদের হাতে থাকা কয়েকটি বিধ্বংসী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র, যা খোদ মার্কিন ও ইজরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
১. ফাতাহ হাইপারসনিক মিসাইল: রাডারের যম
ইরানের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হলো ফাতাহ-১ এবং ফাতাহ-২। এগুলি ঘণ্টায় ১৮,৫২২ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। এর বিশেষত্ব হলো, এটি মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে প্যাট্রিয়ট বা আয়রন ডোমের মতো অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেমগুলি একে সহজে লক্ষ্যভেদ করতে পারে না। ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকানো এই মিসাইলগুলি শত্রুপক্ষের রাডারকেও ধোঁকা দিতে ওস্তাদ।
২. শাহেদ-১৩৬: সস্তা কিন্তু মারাত্মক ‘সুইসাইড ড্রোন’
ইরানের দ্বিতীয় তুরুপের তাস হলো শাহেদ-১৩৬ অ্যাটাক ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের দাম মাত্র কয়েক হাজার ডলার, কিন্তু এটিকে ধ্বংস করতে ইজরায়েলকে ব্যয় করতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এই ড্রোনগুলি রাডারের নজর এড়িয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ে গিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালায়। এর ফলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের দামি মিসাইল স্টক দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
৩. খোররামশহর-৪: ২ হাজার কিলোমিটারের মারণ-কামড়
দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ইরানের সেরা বাজি খোররামশহর-৪। এটি একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে (Multi-warhead) আঘাত হানতে পারে। ইজরায়েলের বিমানঘাঁটি বা মার্কিন নৌঘাঁটি ধ্বংস করতে ইরান বিশেষভাবে এই হাইপারসনিক গতির ব্যালিস্টিক মিসাইলটি তৈরি করেছে।
৪. জুলফিকার ব্যালিস্টিক মিসাইল
হার্ড জ্বালানি চালিত এই মিসাইলটি লঞ্চ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। যেখানে পুরোনো মিসাইল প্রস্তুত করতে কয়েক ঘণ্টা লাগত, সেখানে জুলফিকার নিমেষের মধ্যে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
হামলা চললেও ইরানের অস্ত্র কারখানাগুলিতে উৎপাদন বন্ধ নেই। ফলে একদিকে যখন আমেরিকা খরচ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সস্তা কিন্তু কার্যকরী প্রযুক্তিতে পাল্লা দিচ্ছে ইরান। মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপ বা ট্রাম্পের নয়া নির্দেশে যুদ্ধের ইতি ঘটে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।