আবার কি লকডাউন? মোদীর গলায় কোভিডের সুর! ‘এনার্জি লকডাউন’ আতঙ্কে কাঁপছে দেশ

২০২০ সালের ২৪ মার্চ রাত ৮টা—ভারতের ইতিহাসে এক স্তব্ধতার সূচনা হয়েছিল। ঠিক চার বছর পর, ২০২৪ সালের সেই একই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর মনে ফিরছে পুরনো আতঙ্ক। তবে এবার কারণ ভাইরাস নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সবথেকে চর্চিত বিষয় হলো ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown)। আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় জ্বালানি ও গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাম্প্রতিক এক ভাষণে কোভিডকালের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “আমাদের সকলকে এখন একজোট হয়ে সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন, ঠিক যেমনটা আমরা কোভিডের সময়ে করেছিলাম।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এবং দেশে এলপিজি সংকটের ইঙ্গিত সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও সরকার সরাসরি ‘লকডাউন’ শব্দটি ব্যবহার করেনি, কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে:
-
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: এখানে পুরোদমে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ইচ্ছেমতো তেল বা বিদ্যুৎ খরচ করা যাচ্ছে না।
-
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা: পেট্রোল পাম্পে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।
-
অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপিন্স: অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট ভাউচারের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে।
ভারতে এখনও সেই পরিস্থিতি না আসলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিস-কাছারি বা যানচলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আসতে পারে। ইন্টারনেটে এই পরিস্থিতিকেই বলা হচ্ছে ‘এনার্জি লকডাউন’। এটি মহামারির মতো ঘরবন্দি দশা না হলেও, দৈনন্দিন জীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।