“কাঁটায় কাঁটায় ২৬-এর লড়াই!”-জঙ্গলমহলের ৪০ আসনে পদ্ম ফোটাতে শাহ-শুভেন্দুর ‘সিক্রেট ব্লু-প্রিন্ট’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যে একতরফা হবে না, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে। একদিকে যেমন উত্তরবঙ্গ ছাপিয়ে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় শক্তি বাড়াচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ‘কাঁটার টক্করে’ ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠতে পারে বাংলার জঙ্গলমহল

টার্গেট ৪০: জমি পুনর্দখলের লড়াই

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ২১টি ব্লক নিয়ে গঠিত জঙ্গলমহলে বিধানসভা আসন সংখ্যা মোট ৪০। একসময় বামেদের দুর্গ এবং পরে তৃণমূলের খাসতালুক হওয়া এই অঞ্চলে ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-এর লোকসভায় অভাবনীয় ফল করেছিল বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভাতেও ৪০টির মধ্যে ১৬টি আসন পায় পদ্মশিবির। কিন্তু গত পঞ্চায়েত ও চব্বিশের লোকসভায় সেই দাপট কিছুটা ফিকে হয়েছে। তাই ২৬-এর আগে এখানে মরিয়া হয়ে ঝাঁপাতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীরা।

দুর্গাপুর বৈঠকে ‘মাস্টারপ্ল্যান’

সম্প্রতি দুর্গাপুরে বিজেপির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জঙ্গলমহল জয়ের বিশেষ ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। আদিবাসী ও কুর্মি সম্প্রদায়ের মন জয়ে একগুচ্ছ স্থানীয় ইস্যুকে হাতিয়ার করছে বিজেপি:

  • বালি মাফিয়া: এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠের অভিযোগ।

  • জমি দখল ও শংসাপত্র: আদিবাসীদের (ST) জমি বেআইনি দখল এবং ভুয়ো SC-ST সার্টিফিকেট চক্রের রমরমা।

  • বেকারত্ব ও স্বাস্থ্য: আদিবাসী যুবকদের চাকরি না পাওয়া এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকের তীব্র অভাব।

  • জলসংকট: জঙ্গলমহলের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যাকে ফের সামনে আনা।

মমতার ‘উন্নয়ন’ বনাম বিজেপির ‘বঞ্চনা’

তৃণমূলের মূল অস্ত্র ২০১১ পরবর্তী জঙ্গলমহলের ‘শান্তি’। মাওবাদী দাপট থামিয়ে এলাকার ভোল বদলে দেওয়া এবং রাস্তাঘাটের উন্নতির কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই দাবি করেন। “জঙ্গলমহল হাসছে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই পাল্টা লড়ছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের দাবি, আদিবাসী ও কুর্মি সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি, বরং বঞ্চনা বেড়েছে। ৩০ শতাংশ কুর্মি এবং ৮ শতাংশ আদিবাসী ভোট এখন কোন দিকে ঘোরে, সেটাই দেখার।