‘সংঘাত নয়, চাই সমাধান!’ পশ্চিম এশিয়া সংকটে ট্রাম্পকে কী বিশেষ পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কয়েক মিনিটের এই ফোনালাপে উঠে এল ‘হরমুজ প্রণালী’র (Strait of Hormuz) নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাবের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলি। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই মুহূর্তে গায়ের জোর নয়, বরং দ্রুত উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য।
ফোনালাপের নেপথ্যে কী? সরকারি সূত্রে খবর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় মোদী ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংঘাত কোনও সমাধান নয়, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল শান্তি সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা কেবল ওই অঞ্চলের নয়, বরং ভারতের মতো দেশগুলির জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক রুটের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের এক বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে হয়। ট্রাম্প ও মোদী দুজনেই একমত হয়েছেন যে, যদি কোনওভাবে এই প্রণালী অবরুদ্ধ হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে। এর ফলে প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির সুনামি আছড়ে পড়তে পারে। ভারত এই জলপথকে ‘খোলা ও নিরাপদ’ রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্বের ত্রাতা কি ভারত? বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে এই আলোচনা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। একদিকে যখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি পক্ষ নিতে ব্যস্ত, ভারত তখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বার্তা দিচ্ছে। দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোখা সম্ভব নয়। সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে—প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তাই এখন বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।