মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ, ভারতে কি বাড়বে তেলের দাম? সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে ‘অভয়’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভারতের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে চ্যালেঞ্জের কথা বললেও, ভারতের প্রস্তুতি যে তুঙ্গে, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার মাঝেও ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা অটুট রাখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি সংকটে ভারতের ‘রক্ষাকবচ’: প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত এখন আর দু-একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। এছাড়া:
-
ভারতের হাতে এই মুহূর্তে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোল মজুত রয়েছে।
-
গত এক দশকে ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়ায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল তেল কম আমদানি করতে হয়েছে।
-
রেলের বৈদ্যুতিকীকরণ ও মেট্রো নেটওয়ার্ক বাড়ায় ডিজেলে নির্ভরতা কমেছে।
-
হরমুজ প্রণালীতে বাধা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক তৎপরতায় এলপিজি ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর: আন্তর্জাতিক বাজারে সারের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও ভারতীয় কৃষকদের ওপর তার আঁচ পড়তে দেয়নি সরকার। মোদী বলেন, “বিদেশের বাজারে এক বস্তা ইউরিয়া ৩০০০ টাকায় বিক্রি হলেও, ভারতের কৃষকরা তা মাত্র ৩০০ টাকায় পাচ্ছেন।” সরকার কৃষকদের পাশে থাকার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছে। এছাড়া গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কয়লা উৎপাদন ও সৌরশক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয়কে সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইরান থেকে ফেরা ১০০০ জনেরও বেশি ডাক্তারি পড়ুয়া রয়েছেন। প্রায় ১ কোটি ভারতীয় এখনও ওই অঞ্চলে কর্মরত, যাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই সরকারের ‘টপ প্রায়োরিটি’। তবে কিছু ভারতীয়র মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।