নন্দীগ্রামের বদলা কি ভবানীপুরে? শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মমতার ‘মাস্টারপ্ল্যান’, জয় নিশ্চিত করতে কর্মীদের দিলেন ৫ টিপস

২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে চর্চিত ‘হটসিট’ এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। লড়াইটা কেবল দুই প্রার্থীর নয়, লড়াইটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রামে হারের স্মৃতি মুছে দিতে এবার নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুর থেকেই ‘বদলা’ নিতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো। রবিবার চেতলার কর্মিসভায় দাঁড়িয়ে দলের রণকৌশল স্থির করে দিয়েছেন তিনি।
মমতার ৫ দফা টিপস ও কড়া নির্দেশ: পুরোদমে প্রচার শুরু করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভোট শেষ হওয়া মানেই লড়াই শেষ নয়। জয়ের জন্য তিনি ৫টি বিশেষ টিপস দিয়েছেন: ১. নির্বাচনের দিন থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। ২. ভোট গ্রহণ শেষ হলেই কর্মীরা যেন বাড়ি না চলে যান। ৩. স্ট্রংরুমের ওপর বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে দিন-রাত। ৪. কোনোভাবেই আলগা দেওয়া চলবে না, পুরো প্রক্রিয়া মেটা পর্যন্ত থাকতে হবে ময়দানে। ৫. বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবিড় জনসংযোগ করতে হবে, সেলিব্রিটি প্রচারের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্যক্তিগত যোগাযোগে।
ঘরের মেয়ে বনাম বহিরাগত তত্ত্ব: তৃণমূল কংগ্রেস ভবানীপুরে মমতাকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। অভিষেকের বেঁধে দেওয়া ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যপূরণে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতারা।
SIR ইস্যু ও ৪৭ হাজার ভোটার: মমতার এবারের বড় হাতিয়ার ভোটার তালিকার ‘SIR’ ইস্যু। ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে ভবানীপুরে প্রায় ৪৭,০০০ নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা। ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি এই আবেগকে ভোটবাক্সে ফেরাতে চাইছেন।