“PSL-হবে দর্শকশূন্য মাঠে”-জেনেনিন কেন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের?

মাঠ কাঁপানো চার-ছক্কা থাকবে, থাকবে বিদেশি তারকাদের দাপট—কিন্তু গ্যালারিতে থাকবে না কোনো চিৎকার। পশ্চিম এশিয়ার চরম উত্তেজনা এবং আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে ধেয়ে আসা ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা পিএসএল (PSL) ২০২৬ আয়োজিত হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে।

নিরাপত্তাই প্রথম: বাতিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে এবার কোনো জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ছয়টি শহরের বদলে খেলা হবে মাত্র দুটি শহরে—লাহোর ও করাচি

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাকভি বলেন, “পিএসএল আমাদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, তাই টুর্নামেন্ট বাতিল করা সম্ভব নয়। কিন্তু একসাথে ২৫-৩০ হাজার মানুষের ভিড় জমানো এই মুহূর্তে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।”

টিকিটের টাকা ফেরত ও অন্যান্য বিধিনিষেধ:

  • রিফান্ড: যারা ইতিমধ্যে টিকিট কিনেছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

  • ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্ষতিপূরণ: দর্শকদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তা বহন করবে বোর্ড।

  • জ্বালানি সংকট: দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, চালু হয়েছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’।

পিএসএল ২০২৬-এর খুঁটিনাটি: ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত মোট ৩৪ দিন ধরে চলবে এই টুর্নামেন্ট। এবারই প্রথম ৮টি দল অংশ নিচ্ছে: ১. হায়দ্রাবাদ কিংস মেন, ২. ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, ৩. করাচি কিংস, ৪. লাহোর কালান্দার্স, ৫. মুলতান সুলতানস, ৬. পেশোয়ার জালমি, ৭. কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস এবং ৮. রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ।

মোট ৪৪টি ম্যাচের লড়াই শেষে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে হবে মেগা ফাইনাল। বৃষ্টির জন্য রাখা হয়েছে একটি ‘রিজার্ভ ডে’। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের আক্ষেপ একটাই—ঘরের মাঠে প্রিয় তারকাদের খেলা এবার দেখতে হবে শুধু টিভির পর্দায়।