হাতে জ্যান্ত কাতলা মাছ! বিধাননগরের বাজারে বিজেপি প্রার্থীর কাণ্ড দেখে থ আমজনতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর প্রচারের ময়দানে নজর কাড়তে প্রার্থীরা বেছে নিচ্ছেন একের পর এক অভিনব কায়দা। কেউ চপ ভাজছেন, কেউ বা সেলুনে ঢুকে ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন। তবে রবিবার সকালে সল্টলেকের আইএ (IA) মার্কেটে যা দেখা গেল, তা এককথায় নজিরবিহীন। হাতে একটি আস্ত বড় কাতলা মাছ নিয়ে দোকানে দোকানে ভোট চাইলেন বিধাননগর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

বাঙালি অস্মিতা ও মাছ-রাজনীতি মাছ হাতে কেন এই প্রচার? বিজেপি প্রার্থীর সাফ জবাব, তৃণমূল কংগ্রেস মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি মানুষের মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা বলছেন বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে। আমরা বলছি, আমরা মাছ নিয়েই চলব। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই নেই। প্রয়োজনে আমরা তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতেও মাছ পাঠিয়ে দেব।”

বাজারজুড়ে শোরগোল রবিবার ছুটির দিনে সল্টলেকের ওই বাজারে তখন উপচে পড়া ভিড়। তার মাঝেই প্রার্থীর হাতে মাছ দেখে থমকে দাঁড়ান ক্রেতা থেকে বিক্রেতা— সকলেই। এই ‘মাছ-ম্যাজিক’ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার। তবে কেবল মাছ নয়, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে কেউ রান্নাঘরে ঢুকে রুটি বেলছেন, কেউ বা নর্দমা পরিষ্কার করে জনসেবার বার্তা দিচ্ছেন।

ভোটের নির্ঘণ্ট উল্লেখ্য, ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবার মাত্র দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল (১৫২টি আসন) এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল (১৪২টি আসন)। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। বিধাননগরের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ‘মাছ’ অস্ত্র কতটা কার্যকর হয়, তা জানা যাবে মে মাসেই।