TMC-কে জেতানোর ছক?’-বিজেপি দফতরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নিহত অভিজিতের দাদা!

প্রার্থীতালিকা প্রকাশ হতেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি আছড়ে পড়ল বিজেপির রাজ্য দপ্তরে। সল্টলেকে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদেরই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বসলেন শমীক।
‘বেশি সহ্য করব না’, রণংদেহি শমীক
বেলেঘাটার প্রার্থী পার্থ চৌধুরী এবং এন্টালির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল-সহ একাধিক কেন্দ্রের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মীরা। সল্টলেক অফিসের বাইরে শমীক ভট্টাচার্য ও লকেট চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে ধরে চলে স্লোগান। বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে একসময় মেজাজ হারান শমীক। আঙুল উঁচিয়ে তিনি বলেন, “একটা সময় পর্যন্ত আমি টলারেট করব, তারপর আর করব না। আপনারা চুপ করুন, একদম চুপ! নির্বাচনের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
অন্যদিকে, লকেট চট্টোপাধ্যায় পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বিষয়টিকে ‘পারিবারিক সমস্যা’ বলে লঘু করার চেষ্টা করলেও, তাঁর চোখেমুখে অস্বস্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট।
নিহত কর্মীর দাদার হাহাকার: ‘তৃণমূলকে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে?’
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছেন ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভাইকে তৃণমূল খুন করেছিল। এখন এমন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে যাতে তৃণমূলেরই সুবিধা হয়। বিজেপির অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল, কিন্তু এই প্রার্থীকে আমরা মানব না।” দিল্লি থেকে ‘চাপিয়ে দেওয়া’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরব হন কয়েকশ কর্মী।
তৃণমূলের খোঁচা: ‘ভিতর থেকেই ভাঙছে বিজেপি’
বিজেপির এই আদি-নব্য দ্বন্দ্ব এবং বিক্ষোভকে হাতিয়ার করতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে তাদের কটাক্ষ, “বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করার আগেই বিজেপির কর্মীরাই নেতাদের প্রত্যাখ্যান করছেন। মোদী হাওয়ার ভরসায় যারা একসময় বাড়ি বাড়ি ঘুরেছিলেন, আজ তারাই বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে নেতাদের ঘেরাও করছেন। বাংলায় বিজেপির ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।”