স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই! আরজি কর কাণ্ডে মহিষাদল থেকে হুঙ্কার শুভেন্দুর, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!

ফের বিতর্কের কেন্দ্রে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এবার হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে আটকে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল প্রবল ঝড়। মৃত ব্যক্তির নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০), বাড়ি দমদমে। এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মহিষাদলের প্রচার সভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে অভিহিত করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার ভোরে। জানা গিয়েছে, ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আরজি করে এসেছিলেন অরূপবাবু। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে ওঠার পরেই সেটি মাঝপথে আটকে যায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা ওই বন্ধ লিফটের দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে আটকে ছিলেন তাঁরা। ভোরের দিকে হাসপাতালে ভিড় কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ তাঁদের চিৎকার কারও কানে পৌঁছায়নি। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর তীব্র আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হন অরূপবাবু। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মহিষাদল থেকে গর্জে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, “যে লিফটটি মেরামতির কাজ চলছিল, সেখানে কেন রোগী ও তাঁদের পরিজনদের উঠতে দেওয়া হলো? এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য দফতর এড়াতে পারে না।” তিনি এই ঘটনার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এদিকে আরজি কর চত্বরেও রোগীর পরিজনদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনও লিফট অপারেটর থাকে না। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। লিফট অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।