উত্তরে বিজেপির ঘরে ‘বিদ্রোহের আগুন’! প্রার্থী মানি না বলে পার্টি অফিসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, রণক্ষেত্র ৩ জেলা!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই উত্তরবঙ্গে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি। বৃহস্পতিবার দলের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে আছড়ে পড়ল দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় চলল দেদার ভাঙচুর, এমনকি দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের সেই পরিচিত ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ ছবিই আবার ফিরে এল ২০২৬-এর আঙিনায়।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আলিপুরদুয়ার সদর কেন্দ্রে। সেখানে পরিতোষ দাসের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কর্মীরা। জেলা কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষুব্ধ কর্মী শঙ্কর ঘোষের সাফ কথা, “আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে ওপর থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা এই নাম মানি না।” একই ছবি দেখা গিয়েছে মাদারিহাট ও মালবাজারেও। সেখানেও লক্ষ্মণ লিম্বু ও শুক্রা মুন্ডার প্রার্থিপদ বাতিলের দাবিতে পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জেও দধিরাম রায়ের নাম ঘোষণা হতেই আদি বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১-এর নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ ছিল বিজেপির দুর্গ। আলিপুরদুয়ারের ৫টি আসনেই জিতেছিল পদ্ম শিবির। কিন্তু এবার ঘরের ভেতরেই এই ‘বিদ্রোহের আগুন’ সেই জমি ধরে রাখাকে কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও প্রার্থীরা দাবি করছেন, এই ক্ষোভ সাময়িক এবং দ্রুত সব মিটে যাবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উত্তরবঙ্গের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কি বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারবে? গেরুয়া শিবিরের লড়াই এখন প্রতিপক্ষের সাথে, নাকি নিজেদেরই ঘরের লোকের বিরুদ্ধে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।