লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার ‘যুবসাথী’, ইস্তেহার প্রকাশ করে বিজেপি-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৃণমূল নেত্রীর!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর এবার বিরোধীদের টেক্কা দিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কালীঘাটে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের এই ইস্তেহার প্রকাশ করেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে— ‘বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’। ইস্তেহারে মূলত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং নাগরিক পরিষেবাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই।” ইস্তেহারের অন্যতম বড় চমক হলো ‘দুয়ারে চিকিৎসা’। দুয়ারে সরকারের সাফল্যের পর এবার প্রতিটি ব্লক ও শহরে স্বাস্থ্য শিবির করে মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে শাসক দল। এছাড়াও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মাসিক ১৫০০ টাকা হাতখরচ দেওয়া হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে ৭টি নতুন জেলা এবং একাধিক নতুন পুরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’র মধ্যে রয়েছে— লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য ৩০ হাজার কোটির বিশেষ বাজেট, সবার জন্য পাকা বাড়ি, ঘরে ঘরে পানীয় জল এবং সরকারি স্কুলগুলির আমূল আধুনিকীকরণ। ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, “মোদী সরকার ডিলিমিটেশন ও এনআরসি-র নামে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে। কিন্তু আমরা থাকতে বাংলা ভাঙতে দেব না।” ছ’টি ভাষায় প্রকাশিত এই ইস্তেহার আগামী ৫ বছর নয়, বরং আগামী ১৫ বছরের উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেত্রী।