‘পুরোনো বাড়ি জবরদখল করাচ্ছে পুলিশ’,-৫,০০০ বাড়িওয়ালার চরম সিদ্ধান্ত, চাপে সব দল?

তিলোত্তমার বুকে একের পর এক বহুমূল্য সম্পত্তি জবরদখল হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার— এই অভিযোগে এবার নজিরবিহীন প্রতিবাদের পথে হাঁটলেন কলকাতার বাড়িওয়ালারা। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ‘ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাদের সংগঠনের ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য ‘নোটা’ (NOTA)-তে ভোট দেবেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের বাড়িওয়ালাদের কাছেও এই একই আবেদন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত সরাসরি পুলিশি মদতের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “শ্যামপুকুর থানার অফিসার পরিতোষ ভাদুরি ও অজয় সাহা ২০ কোটি টাকার ‘মন্মথ কেবিন’ জবরদখলে জড়িত।” শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিধবাদের সম্পত্তিও মাফিয়ারা দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়িওয়ালাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলই তাঁদের এই দুর্দশা নিয়ে মুখ খুলছে না।

বকেয়া ৪০০ কোটি ও করের বোঝা সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভের আরও কিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে:

  • রেন্ট কন্ট্রোল জট: কলকাতায় বাড়িওয়ালাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং রাজ্যে মোট ২৭০০ কোটি টাকা রেন্ট কন্ট্রোলে আটকে রয়েছে, যা আদায়ে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

  • অযৌক্তিক কর: গাড়িওয়ালারা রাস্তায় গাড়ি রাখলে তার করের বোঝা চাপানো হচ্ছে বাড়িওয়ালাদের ওপর। এমনকি হাওড়া ব্রিজের করও পুরসভা বাড়িওয়ালাদের থেকে নিচ্ছে বলে অভিযোগ।

কেন এই ‘নোটা’র ডাক? বাড়িওয়ালাদের বক্তব্য, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে বেদখল হয়ে গেলেও প্রকৃত মালিকরা বিচার পাচ্ছেন না। প্রশাসনের ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে এবং সব রাজনৈতিক দলের উদাসীনতায় বীতশ্রদ্ধ হয়েই তাঁরা এই ‘প্রতিবাদী ভোট’-এর পথ বেছে নিয়েছেন। ভোটের আগে এই ৫ হাজার পরিবারের ‘নোটা’র ডাক শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।