নেতানিয়াহুর ওপর চটলেন ট্রাম্প! ইরানের গ্যাস ফিল্ডে হামলা নিয়ে তুঙ্গে দুই বন্ধুর সংঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা বাহিনীর লাগাতার হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। কিন্তু এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ইরানের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ ‘সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড’-এ ইজরায়েলি হামলা নিয়ে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। খোদ ট্রাম্পের কথাতেই এই ফাটলের ইঙ্গিত মিলেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ইরানের এই বিশাল গ্যাস ক্ষেত্রে হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোয় পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকার উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলি ট্রাম্পের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে তিনি নেতানিয়াহুকে সংযত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সেনাই তাকাইচির সঙ্গে ওভাল অফিসে আলাপচারিতার সময় ট্রাম্প বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, ইরানের জ্বালানি সম্পদে ইজরায়েলি হামলা তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেননি। ট্রাম্পের কথায়, “আমি ওঁকে (নেতানিয়াহু) বলেছিলাম এটা করবেন না। আমরা এতদিন সব সিদ্ধান্ত একসঙ্গে নিচ্ছিলাম, কিন্তু মাঝেমধ্যে উনি এমন কিছু করেন যা আমার পছন্দ নয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং এই হামলা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, শুরুতে নেতানিয়াহু একমত হলেও পরে স্বাধীনভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। যদিও ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে, তবুও মাঝেমধ্যে ইজরায়েলের একগুঁয়েমি ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইজরায়েলের কোনো পদক্ষেপ তাঁর পছন্দ না হলে তিনি তা থামানোর চেষ্টা করেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, বন্ধু দেশ দুটির এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেবে?