‘মেয়ে’ থেকে ‘মা’, স্লোগান বদলে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক! ইস্তেহারে কি থাকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধামাকা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। আর এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে সবার নজর এখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারের দিকে। সূত্রের খবর, ঘাসফুল শিবিরের নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রায় তৈরি এবং খুব শীঘ্রই তা জনসমক্ষে আনা হবে। গত কয়েক বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী বা যুবসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্পের সাফল্যের পর এবার ইস্তেহারে ঠিক কী কী নতুন চমক থাকতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

দলীয় সূত্রে খবর, এবারের ইস্তেহারে সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও মজবুত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত মিলছে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ বা নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে। তৃণমূল এবারও ‘বাংলা অস্মিতা’ বা বাঙালির আত্মসম্মানকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামছে। ভিনরাজ্যে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যের ইস্যুটিকে সামনে রেখে ইস্তেহারে বিশেষ গ্যারান্টি দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক স্লোগান পরিবর্তন। ২০২১-এর ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান সরিয়ে এবার নতুন বার্তায় শান দিচ্ছে দল— ‘যে লড়ছে সবার ডাকে/সেই বাঁচাবে বাংলা মা কে।’ অর্থাৎ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘মেয়ে’ থেকে ‘মা’ ইমেজে উত্তরণ ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। ইস্তেহারে সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি থাকতে চলেছে। এখন দেখার, ইস্তেহারের এই নতুন ফর্মুলা ভোটের বাক্সে কতটা ম্যাজিক দেখায়।