পয়লা এপ্রিল থেকেই কি চাকা থমকে যাবে বাসের? টোল প্লাজায় নতুন নিয়মে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা!

নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে চলেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে বলবৎ হতে চলেছে নতুন নিয়ম, যার জেরে একধাক্কায় বাড়ছে যাতায়াত খরচ। কিন্তু এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বাস মালিকরা। তাঁদের সাফ কথা, দাবি মানা না হলে পয়লা এপ্রিল থেকেই জাতীয় সড়কে বাস চালানো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন নিত্যযাত্রীরা।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ৩০০০ টাকার মাসিক পাস বেড়ে হচ্ছে ৩০৭৫ টাকা। শুধু তাই নয়, ১ এপ্রিল থেকে টোল প্লাজাগুলিতে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মূলত রুখে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাস মালিকদের দাবি, অনেক চালক এখনও ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত নন। তাছাড়া, নগদ লেনদেন বন্ধ হলে এবং ফাসট্যাগ বা ইউপিআই বাধ্যতামূলক করলে স্থানীয় রুটের বাসগুলির খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে।

বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রুট বাসগুলির জন্য টোল ফিতে বিশেষ ছাড় দিতে হবে এবং নগদ লেনদেন আপাতত চালু রাখতে হবে। এছাড়াও তাঁদের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে, যেমন—জাতীয় সড়কে অটো বা টোটোর মতো ধীরগতির যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা, সার্ভিস রোডে ট্রাক পার্কিং নিষিদ্ধ করা এবং টোল প্লাজায় রুট বাসের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি এই দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করা হয়, তবে ১ এপ্রিল থেকে কোনো বাস টোল প্লাজা পার করবে না। এর ফলে যদি পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন, তবে তার দায় সম্পূর্ণ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এখন দেখার, পয়লা এপ্রিলের আগে সরকার বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কোনো মধ্যপন্থা খুঁজে বের করে কি না।