“প্রার্থী তালিকাই বেরলো না”-বাংলায় ভোটযুদ্ধে কংগ্রেসের পরিস্থিতি কেমন?

বাংলার নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। ১৫ মার্চ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিআইএম। শাসক থেকে বিরোধী—সব দলই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রচারে ঝড় তুলেছে। কিন্তু এই চড়ম ব্যস্ততার মধ্যেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। বাকিরা যখন বাড়ি বাড়ি পৌঁছে ভোট ভিক্ষা করছেন, কংগ্রেসের অন্দরমহলে তখন শুধুই ‘অপেক্ষা’।

পিছিয়ে পড়ছে কি কংগ্রেস? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই শুরুর আগেই কি অনেকটা জমি ছেড়ে দিল হাত শিবির? বিজেপি এবং সিপিআইএম ইতিমধ্যেই দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তৃণমূলও পিছিয়ে নেই। ফলে তাঁদের প্রার্থীরা যখন দেওয়াল লিখন আর জনসভায় ব্যস্ত, তখন কংগ্রেস কর্মীরা এখনও জানেন না তাঁদের সেনাপতি কারা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই বিলম্বের ফলে প্রচারের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল শতাব্দীপ্রাচীন এই দল।

দিল্লির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় বিধান ভবন যদিও এই ‘পিছিয়ে পড়া’র তত্ত্ব মানতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে সুমন রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, কংগ্রেস একটি জাতীয় দল বলেই প্রার্থী বাছাইয়ে সময় লাগছে। তিনি বলেন, “আমাদের হাই কম্যান্ড সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করছে। দিল্লি থেকে চূড়ান্ত সিলমোহর এলেই তালিকা প্রকাশ হবে।” তাঁর দাবি, তাড়াহুড়ো করে ভুল প্রার্থী চয়ন করতে চায় না দল।

তৈরি প্রচারের ব্লু-প্রিন্ট প্রার্থী ঘোষণা না হলেও দমে নেই কংগ্রেস। সুমন বাবুর দাবি, প্রচারের কৌশল ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের মূল হাতিয়ার হবে মানুষের ‘জীবন ও জীবিকা’। বড় জনসভার চেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের ওপরই বেশি জোর দেবে তাঁরা। যথাসময়েই দল পূর্ণশক্তিতে ভোটযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে আত্মবিশ্বাসী হাত শিবির।

এখন দেখার, দিল্লি থেকে গ্রিন সিগন্যাল কবে আসে এবং বাকি দলগুলির প্রচারের ঝড়ের মোকাবিলা কংগ্রেস কীভাবে করে।